মুন্সিগঞ্জে কিশোর সিয়ামকে ছুরিকাঘাত, ‘প্রভাবশালীদের শেল্টারে’ থেকেও ধরা পড়লো আসামি
17

মুন্সিগঞ্জ, ১০ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কিশোর সিয়ামকে (১৮) ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মোস্তাকিম আফজাল ওরফে টোপর প্রধান (২৬) মামলার ২ নম্বর আসামি।

আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সিয়ামের মা সুমী বেগম বাদী হয়ে গত ১৩ জুলাই মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

গ্রেপ্তার মোস্তাকিম আফজাল ওরফে টোপর প্রধান উত্তর ইসলামপুর এলাকার আফজাল প্রধানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ঘটনার পর মোস্তাকিম আফজাল ওরফে টোপর প্রধান প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘শেল্টারে’ থাকার কারণে তিনি এত দিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিয়াম মুন্সিগঞ্জ শহরের একটি সেলুনে চুল কাটার জন্য বাসা থেকে বের হন। তিনি মুন্সিগঞ্জ সরকারি হাইস্কুলের বিপরীত পাশে ডিসি পার্কের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আসামিরা তাঁর পথরোধ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। পরে তাঁদের সঙ্গে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার দিয়ে সিয়ামকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

এজাহার অনুযায়ী, হামলায় সিয়ামের মাথার পেছনের বাম পাশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা ও ছিলা জখম হয়। এ ছাড়া পেটের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও নীলাফোলা ও ছিলা জখম হয়। তাঁর বুকের পাশের পাঁজরের হাড়ও ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সিয়ামকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের ভাষ্য, গুরুতর আহত সিয়ামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোস্তাকিম আফজাল ওরফে টোপর প্রধানকে শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।

এজাহারে সিয়ামের ওপর হামলার ঘটনায় মোস্তাকিমসহ হোসেন গাজী, রোমান মিঝি, মো. শাহ পরান শামীম দেওয়ান, বাপ্পি, ফাহিম, ওমর ফারুক, নাজমুল, রাব্বি, নিরব ও আরেক ফাহিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেই বিরোধের জেরেই সিয়ামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ