মুন্সিগঞ্জে ১০ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার ঘটনায় ৩ আসামির কারাদণ্ড, খালাস ৮
২১৬

মুন্সিগঞ্জ, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মওদুদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গজারিয়া উপজেলার মধ্য ভাটেরচর গ্রামের জিএম শহিদুল্লার দুই ছেলে জাহিদুল হাসান আকাশ (২২) ও হাছিবুল হাসান শান্ত (২০) এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইদুজ্জামান সজীব (২৪)।

আদালতের রায়ে জাহিদুল হাসান আকাশকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাইদুজ্জামান সজীবকে ১০ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং হাছিবুল হাসান শান্তকে আট মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে গজারিয়ার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মদিনা টিম্বারের সামনে বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় একদল ব্যক্তি। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ২৯ নভেম্বর রফিকুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম ডালিম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নূর হোসাইন সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিন আসামিকে সাজা দিয়েছেন এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আটজনকে খালাস দিয়েছেন। আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় রফিকুল ইসলামের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।

গজারিয়াসহ মুন্সিগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও হোমনা এবং ঢাকার মাতুয়াইলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ