মুন্সিগঞ্জের ৪৭ বছরের প্রবাসী বিয়ে করছিলেন ১৬ বছরের কিশোরী, বিয়ে বন্ধ করে জরিমানা করলো প্রশাসন
মুন্সিগঞ্জ, ১২ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব শিলমন্দি গ্রামে দশম শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার মুচলেকা দিয়েছে বর ও কনের পরিবার।
আজ সোমবার মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শিলমন্দি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলামের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৬ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয় ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসীর সঙ্গে।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানার সদস্যরা।
ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন, বর ও বরযাত্রী, বিয়ের সাজে কনে এবং অতিথিদের উপস্থিতি দেখতে পান তাঁরা। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপিত জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে সেটি নকল বলে প্রমাণিত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করে ওই শিক্ষার্থীর বয়স ১৬ বছর নিশ্চিত করা হয়। বরের বয়স ৪৭ বছর বলে জানা যায়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার অঙ্গীকার করে বর ও কনের পরিবার মুচলেকা দেয়।
অভিযানকালে উপস্থিত এলাকাবাসীকে বাল্যবিবাহের কুফল ও এ-সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ জন্য সামাজিকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।
উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর নিয়মিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও পিভিএইচপি প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে।








