সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জিম্মি মুন্সিগঞ্জের যুবক, মুক্তিপণ দাবির পর উদ্ধার
1

মুন্সিগঞ্জ, ২৮ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন মুন্সিগঞ্জের এক যুবক। পরে তাকে ঢাকার গুলশান এলাকার একটি বাসায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করেছে এবং অপহরণে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম ইনছান বেপারী (২২)। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের ঘাসিপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

পরদিন সকালে ইনছানের মা মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের ইমো নম্বর থেকে পরিবারের কাছে কল দিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে তার অবস্থান ঢাকার গুলশান এলাকায় শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ সদর থানা থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান থানা পুলিশ রোববার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহজাদপুর ভোলা মসজিদের সামনে কাজী ভিলা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি বাসা থেকে ইনছানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধারের পর ইনছান পুলিশকে জানান, তার সাবেক স্ত্রী সাফামনি (২২) কৌশলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে সাফামনির কথিত প্রেমিক মো. নাইমসহ কয়েকজন তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর করেন এবং পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা দাবি করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নোয়াখালীর চরজব্বার এলাকার মো. সোহেল (২৪), সুধারাম এলাকার মো. বেলায়েত হোসেন (২৫) এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার রোমান ইসলাম (২৩)। তারা বর্তমানে ঢাকার শাহজাদপুরের কাজী ভিলা এলাকায় থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। আন্তঃথানা সমন্বয় ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে অপহৃত যুবককে উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ