যুবদল নেতা হত্যা মামলায় বিপ্লবকে আদালতে প্রেরণ, রাখা হয়েছে কেরাণীগঞ্জ কারাগারে
মুন্সিগঞ্জ, ২৩ জুন ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
ঢাকার পল্টন থানায় ২০২৪ সালে দায়েরকৃত বিএনপির মহাসমাবেশে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে আদালতের নির্দেশে তাকে পাঠানো হয় কেরাণীগঞ্জ জেলহাজতে।
আজ সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই ফেরদৌস আলম।
এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। জামিন শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলার সঙ্গে ফয়সাল বিপ্লবের কোনও সম্পর্ক নেই। এ মামলায় আয়ুর (তদন্ত কর্মকর্তা) মনগড়া কথায় ওনাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আয়ু বলেছেন, ওনার সঙ্গে এ মামলার সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলছে। এ ধরনের মনগড়া কথা বলে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে। উনি নিজ এলাকায় একজন জনপ্রিয় লোক। সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়েছেন। এ মামলার সঙ্গে ওনার কোনও সম্পর্ক নাই। ওনার জামিন আবেদন করছি।
রাষ্ট্র পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পরই আসামিদের গ্রেফতার করে। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গতকাল রোববার রাত দশটার দিকে রাজধানীর মণিপুরী পাড়া থেকে ফয়সাল বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়।
ফয়সাল বিপ্লব গত বছরের ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ৩ জন নিহতের ঘটনায় সদর থানায় দায়েরকৃত ৩টি হত্যাসহ অন্তত ৫টি হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকা হয়। মহাসমাবেশকে পণ্ড করার জন্য একই দিন আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ ডাকে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে পুলিশের সহায়তায় মহাসমাবেশে হামলা চালানো হয়। হামলায় যুবদল নেতা শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি হয়।





