গজারিয়ায় ক্লিনিক-হাসপাতালে ব্যাপক অভিযান: ১টি সিলগালা-১টি বন্ধ, আরও কয়েকটিকে সতর্ক
মুন্সিগঞ্জ, ২৫ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান, বৈধ লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-জনবল এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম যাচাইয়ে জেলা সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি ক্লিনিক সিলগালা, একটি ক্লিনিকের চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ এবং আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে পরিচালিত হওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের সেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমের তত্ত্বাবধানে অভিযানে নেতৃত্ব দেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন সুলতানা তিথী, জেলা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খান এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ফারহানা খানম।
অভিযানে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ভবেরচরের গজারিয়া পপুলার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ না থাকায় এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এছাড়া ভবেরচর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩ হাজার টাকা এবং জামালদী বাসস্ট্যান্ডের হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে নাজমা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহেও প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করা হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে দ্রুত সেগুলো সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ পর পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতোই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি নেই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও ঘাটতি রয়েছে। বারবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও অনিয়মের কোনো কার্যকর সংশোধন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।
অন্যদিকে, জামালদীর শুকরিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং মেঘনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে তাদের সেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
বন্ধ ও সিলগালার মধ্যে পার্থক্য কী?
এ অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে বন্ধ এবং আরেকটিকে সিলগালা করা হয়েছে। দুটি ব্যবস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকে। তবে মালিক বা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনে প্রবেশ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া, লাইসেন্স নবায়ন, চিকিৎসক-নার্স নিয়োগসহ অনিয়ম সংশোধনের কাজ করতে পারেন। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রমাণপত্র জমা দিলে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।
অন্যদিকে সিলগালা করা হলে প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ সরকারি সিলমোহর বা নিরাপত্তা টেপ দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ভবনে প্রবেশ করা বেআইনি এবং দণ্ডনীয়। সাধারণত গুরুতর অনিয়ম, অবৈধ কার্যক্রম বা বারবার নির্দেশনা উপেক্ষা করার মতো ঘটনায় এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিলগালা খুলতে আদালত বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
অভিযান শেষে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা, বৈধ লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সেবার সামগ্রিক মান যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, জনস্বার্থে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে। লাইসেন্সবিহীন কিংবা অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান চলবে।









