মুন্সিগঞ্জের সেই দুই ছাত্রীকে পাওয়া গেল কেরানীগঞ্জে, বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু করে বসবাস
মুন্সিগঞ্জ, ৭ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে একই বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর তাদের কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘আমার বিক্রমপুর’-এ প্রকাশিত নিখোঁজের সংবাদ দেখে কেরানীগঞ্জ এলাকার স্থানীয়রা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের অবস্থান শনাক্ত হয়। পরে সিরাজদিখান থানা পুলিশ গিয়ে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
উদ্ধার হওয়া দুই ছাত্রী হলো—সিরাজদিখান উপজেলার উত্তর তাজপুর এলাকার রওশন আলী খান বাবুর মেয়ে মিম আক্তার (১৬) এবং উত্তর আবিরপাড়া এলাকার জাকির খানের মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৬)। তারা দুজনই সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আজ বুধবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশি হেফাজত থেকে দুই ছাত্রীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বোরকা পরে নিজ নিজ বাসা থেকে বের হয় মিম ও লামিয়া। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সিরাজদিখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের পর থেকে তাদের একজনের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
পরে গত ৪ অক্টোবর ‘আমার বিক্রমপুর’-এ দুই ছাত্রীর নিখোঁজের সংবাদ প্রকাশের পর কেরানীগঞ্জ এলাকার স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ কেরানীগঞ্জে গিয়ে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই ছাত্রী স্বজনদের জানিয়েছে, বাড়িতে তাদের ভালো লাগত না। এ কারণে তারা দুজন মিলে একসঙ্গে কাজ করার এবং নিজেদের উপার্জনে একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কেরানীগঞ্জে একটি বাসাও ভাড়া নিয়েছিল এবং সেখানে বসবাস শুরু করেছিল।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই কেরানীগঞ্জে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে। তবে বিষয়টি পুলিশ আরও যাচাই করে দেখছে।
দুই ছাত্রীকে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে তাদের পরিবারে। একই বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তাদের উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তার অবসান হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. কামরান হাসান দুই কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।









