১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | রাত ১:৪৩
হলফনামা: স্ব-শিক্ষিত মহিউদ্দিনের জমি ৭৯০ শতাংশ, এইচএসসি পাশ রতন চাকরি করেই কোটিপতি
খবরটি শেয়ার করুন:
879

মুন্সিগঞ্জ, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের হলফনামায় উঠে এসেছে সম্পদের নানা চমকপ্রদ তথ্য।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলার তিনটি আসনেই লড়াই হচ্ছে বড় বড় কোটিপতি ও সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে। কেউ যেমন শত কোটি টাকার মালিক ও বিশাল ব্যাংক ঋণের জালে আবদ্ধ, তেমনি কেউ কেউ সাধারণ জীবনযাপন করে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর–গজারিয়া):

মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সবচেয়ে সম্পদশালী প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন (৬৫)। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রথমে তিনি বাদ পড়লেও ইতিমধ্যে ইসি কতৃক তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।

হলফনামায় মহিউদ্দিন নিজের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে ‘স্ব-শিক্ষিত’ উল্লেখ করেছেন। তার পেশা- ব্যবসা।

মো. মহিউদ্দিনের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৩৩ হাজার ১৯৪ টাকার। পৈত্রিক সূত্রে ৫০০ শতাংশ, ভাইয়ের থেকে পারিবারিকসূত্র সহ সর্বমোট ৭৯০ শতাংশ জমি রয়েছে মহিউদ্দিনের নামে। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩০ টাকা। স্বর্ণ রয়েছে ৫০ ভরি। ঢাকার শান্তিবাগে ৬ তলা আবাসিক ভবন ও মুন্সিগঞ্জের গোসাইবাগে ৩ তলা বাড়ি রয়েছে তার। বছরে বাড়ি ভাড়া পান- ১২ লাখ ২৪ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র/আমানত থেকে বছরে আয় হয় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া আয়কর রিটার্নের বিপরীতে স্ত্রী’র নামে সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৩০০ টাকার। হাতে নগদ বলতে হলফনামায় মহিউদ্দিন উল্লেখ করেছেন ব্যবসায় বিনিয়োগ অবস্থায় তার নগদ টাকা রয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭হাজার ৬৯৪ টাকা ও ব্যবসা বহির্ভুত ৫ লাখ টাকা।

এদিকে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের (৬০) হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা- এইচএসসি। আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ১ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৫ টাকার। চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। তবে তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেটি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এছাড়া বাড়িভাড়া থেকে বছরে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা আয়ের তথ্য দিয়েছেন রতন। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৭৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৭০ টাকার। ব্যাংকে জমা আছে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৩ টাকা। এছাড়া আড়াই লাখ টাকা মূল্যের একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তার। পৈতৃক সূত্রে ১১.৮৫ শতাংশ জমির মালিক রতন। স্বর্ণ রয়েছে ৩০ ভরি। ঢাকায় ১৪৮ বর্গমিটারের ১টি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এছাড়া আয়কর রিটার্নের বিপরীতে স্ত্রী’র নামে সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ১৬০ টাকার ও সন্তানের নামে রয়েছে ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকার।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নূর হোসাইন নূরানির (৫৭) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে কোন বৈধ সম্পদ নেই। তবে তিনি ১৮৬ শতাংশ জমির মালিক। শিক্ষাগত যোগ্যতা- মুফতি (একজন ইসলামিক “আইন ব্যাখাকারী” বা “শাস্ত্রীয় ব্যবস্থাপক” যিনি শরিয়তের জটিল বিষয়গুলো সহজ করে সমাধান দেন।) পেশা- ইমাম।

বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী শেখ মো. কামাল হোসেনের (৫৫) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা- এসএসসি। পেশা- ব্যবসা (দলিল লেখক)।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শেখ মো. শিমুলের (৪৩) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা- বিএসএস। পেশা- ব্যবসা (দলিল লেখক)।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আরিফুজ্জামান দিদারের (৫৭) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে কোন বৈধ সম্পদ নেই। তবে জমি ক্রয়-বিক্রয় পেশা থেকে তিনি বছরে ১০ লাখ টাকা আয় করেন। জমি রয়েছে- ২০ শতাংশ। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্ব-শিক্ষিত।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজী আব্বাস কাজীর (৭১) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ৬ লাখ টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্ব-শিক্ষিত। পেশা- কাচা সবজি ব্যবসা।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সুমন দেওয়ানের (৪৩) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে কোন বৈধ সম্পদ নেই। তবে তিনি বছরে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আয় করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা-কাফিয়া জামাত (কওমি মাদরাসার আরবি ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর বা ক্লাস। যা বাংলা দশম শ্রেণী পাশের সমান) পেশা- কাচা মালের ব্যবসা।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আনিছ মোল্লা (৫২) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে মোট বৈধ সম্পদ ৩১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার। স্বর্ণ রয়েছে- ২০ ভরি। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্ব-শিক্ষিত। পেশা- ব্যবসা।

প্রসঙ্গত: মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৯জন। এর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হলেও পরবর্তীতে তারা বৈধতা ফিরে পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সময় শেষ হয়েছে। ১০ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে।