মুন্সিগঞ্জে প্রবাসীর কষ্টার্জিত টাকা আত্মসাৎ করেছেন স্ত্রী-সন্তান-স্বজনরা, থানায় অভিযোগ
1

মুন্সিগঞ্জ, ২৯ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

জীবনের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন প্রবাসে। পরিবারকে সুখে রাখার স্বপ্নে দিন-রাত পরিশ্রম করে একের পর এক টাকা পাঠিয়েছেন দেশে। সেই কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে উঠবে নিজের বাড়ি, হবে ভবিষ্যতের নিরাপদ ঠিকানা—এমনই স্বপ্ন ছিল মো. মোয়াজ্জেম শেখের (৪৫)। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি দেখেন, সেই স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পূর্ব কাকালদী গ্রামের এই প্রবাসী অভিযোগ করেছেন, তার দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তার স্ত্রী, সন্তানসহ কয়েকজন স্বজন। শুধু তাই নয়, টাকা ও সম্পত্তির হিসাব চাইতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

থানায় দেওয়া অভিযোগে মোয়াজ্জেম শেখ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত প্রায় সব অর্থই তিনি স্ত্রী ইতি বেগমের কাছে পাঠাতেন। উদ্দেশ্য ছিল জমি ক্রয় ও নিজের নামে একটি বাড়ি নির্মাণ করা। কিন্তু দেশে ফিরে জানতে পারেন, তার পাঠানো অর্থে বিভিন্ন সম্পত্তি স্ত্রীর নামে করা হয়েছে। এমনকি তার কষ্টার্জিত টাকায় স্ত্রীর পৈতৃক সম্পত্তির ওপর ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৭ জুলাই মালখানগর এলাকায় স্ত্রীর বাবার বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে স্ত্রী, মেয়েসহ কয়েকজন স্বজন তার ওপর হামলা চালান। তাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরদিন সকালেও আবার তাকে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে বাবু নামে অভিযুক্ত একজন তার বাম চোখে ঘুষি মারলে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্যাতনের ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে মোয়াজ্জেম শেখ অভিযোগে বলেন, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় পানি পান করতে চাইলে তাকে স্বাভাবিকভাবে পানি না দিয়ে টয়লেটের বদনায় করে পানি এনে মুখে ঢেলে দেওয়া হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর কষ্টার্জিত অর্থ ও সম্পত্তির হিসাব চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইতি বেগমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ