সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দী ভাগ্যকুলের তিন হাজার মানুষ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে
2

মুন্সিগঞ্জ, ২৩ জুন ২০২৬, অধীর রাজবংশী (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের পূর্ব কামারগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন জমে থাকা পচা ও দূষিত পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পাশাপাশি বাড়ছে মশা, পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাগ্যকুল ইউনিয়নের বালাসুর চৌরাস্তার কাছাকাছি ঢাকা-দোহার শাখা সড়কের দক্ষিণ অংশে জলাবদ্ধতার পানি অনেক সময় সড়কের ওপর উঠে আসে। সড়কের পাশে ও আশপাশের বসতবাড়িতে জমে থাকা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। চলাচলের সময় অনেক পথচারীকে নাকে কাপড় চেপে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন বাড়ির আঙিনা, চলাচলের পথসহ অনেক জায়গা পানির নিচে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ শেখ (৬৫) বলেন, আমি ২২ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। আগে এই এলাকায় ছয়টি কালভার্ট ছিল। এসব দিয়ে পানি সহজে বের হয়ে যেত। পরে বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট করে ভবন ও মার্কেট নির্মাণ হওয়ায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়ি।

তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েছি। নির্বাচন এলে সবাই সমাধানের আশ্বাস দেন, কিন্তু পরে আর খোঁজ থাকে না।

আরেক বাসিন্দা মো. সিয়াম শেখ বলেন, জমে থাকা পানিতে মশা, পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রব বেড়েছে। রাত হলে ভয় লাগে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

ফাতেমা বেগম নামের এক বাসিন্দা বলেন, নিজেদের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। দুর্গন্ধ ও নোংরা পানির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানাই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় এলাকায় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। শিশুদের মধ্যে চর্মরোগ, জ্বরসহ বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

নিউ অক্সফোর্ড স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেক সময় পানি ভেঙে স্কুলে আসতে হয়। দীর্ঘদিন নোংরা পানির সংস্পর্শে থাকায় তাদের স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাগ্যকুল ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহ আলম সারেং বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও কয়েক বছর আগে এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আলম মার্কেটের স্বত্বাধিকারী সামসু আলম বলেন, সরকারি কোনো প্রকল্প বা উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকার স্বার্থে মালিকপক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, আগে পানি চলাচলের জন্য থাকা ১৪ ইঞ্চি পাইপলাইন ও বিভিন্ন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন একটি আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা ছাড়া বিকল্প নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীনগর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অফিসের করণিক শফিউল্লাহ জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে নেই।

পরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এম হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় থাকার কথা জানিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান বলেন, সমস্যাটির বিষয়ে জেনেছি। উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করা হবে। বিষয়টি যে দপ্তরের আওতাভুক্ত, তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং নিয়মিত ফলোআপ করা হবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ