২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৯:১৩
মুন্সিগঞ্জের বাঁশ-বেতের পণ্য যাচ্ছে বিদেশে
খবরটি শেয়ার করুন:
357

মুন্সিগঞ্জ, ২ নভেম্বর ২০২৫, নাদিম হোসাইন (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধুপুর মনিপাড়া গ্রামের বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী এখন বিদেশে যাচ্ছে। এতে সমৃদ্ধ হচ্ছে অর্থনীতি। ওই গ্রামের ৮০টি পরিবার এ কাজে জড়িয়ে আছে শত বছর ধরে। সেখানে অন্তত সাড়ে ৪০০ নারী-পুরুষ শ্রমিক রয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে ওই গ্রামের ঘরে ঘরে বাঁশ ও বেত দিয়ে নানা শো-পিস তৈরিতে ব্যস্ততার চিত্র দেখা গেছে। বেতের ঝুড়ি, বাস্কেট, পেপার বাস্কেট, ফলের ঝুড়ি, আয়নার গ্লাস ফ্রেম, বেতের ঝাড়বাতি, বেতের মোড়া, ফুলের টবসহ বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি করে থাকেন তারা। এখানকার সামগ্রী রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড ও ইস্কাটনের বাঁশ-বেতের সামগ্রীর দোকানগুলোতে বিক্রি করা হয়ে থাকে। সেখান থেকে দোকানিরা বিদেশেও রপ্তানি করে থাকেন। এখানকার বাঁশ ও বেতের পণ্য যাচ্ছে জাপান, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে।

মেসার্স মধুপুর কুটিরশিল্পের মালিক সুভাষ দাস বলেন, আমাদের বাঁশ-বেতের তৈরি হরেক রকমের জিনিসপত্র বাংলাদেশের নামিদামি ব্র্যান্ড আমাদের কাছ থেকে নিয়ে থাকে। বর্তমানে আমার কারখানায় নারী-পুরুষ মিলে ৬০ জনের বেশি কাজ করেন। তাদের এক একজনের মাসিক বেতন সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকা। তা ছাড়া দেশের বিভিন্ন এক্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা আমাদের অগ্রিম মালের অর্ডার দিয়ে থাকেন। তারা বিভিন্ন দেশে এসব মালামাল পাঠিয়ে থাকেন। অনেক অর্ডার আসে, মাল দিতে পারি না। কারণ, পুঁজি ছাড়া ব্যবসা হয় না। সরকার আমাদের লোনের ব্যবস্থা করে দিলে এ ব্যবসায় অনেকের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেত। একজন নারী শ্রমিক পুষ্প রানী দাস বলেন, আমি ৫০ বছর ধরে এ কাজ করছি। এখন আমার ছেলে-মেয়ে ও ছেলের বউ এ কাজ করে। পরিবারের কাজ শেষে আমরা বিভিন্ন ধরনের বেতের কাজ করি।

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ দিয়ে থাকি। এসব ব্যবসায়ী যদি গ্রুপভিত্তিক আবেদন করেন, তাহলে ভালো একটি ঋণ পাবেন। আমরা ঋণ ছাড়াও মেলার ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকি। তা ছাড়া আমরা বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকি।