জরিপ: মুন্সিগঞ্জে জনসংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়াল, শিক্ষার হার ৭৮ শতাংশের কাছাকাছি
মুন্সিগঞ্জ, ১৯ অক্টোবর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ জেলার মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৬ জন, নারী ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৮ জন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬২ জন। পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি— জেলার মোট জনসংখ্যার ৪৮ দশমিক ৫১ শতাংশ পুরুষ, আর ৫১ দশমিক ৪৯ শতাংশ নারী।
২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬০ জন। এক দশকে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫৬ জন বেশি। এ সময়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়েছে ২৬৩ জন।
২০১১ সালে যেখানে ঘনত্ব ছিল ১ হাজার ৪৩৯ জন, সেখানে ২০২২ সালে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০২ জনে।
জেলায় ৭৭ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ সাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন, যা জাতীয় গড়ের কাছাকাছি। বাসস্থানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ৮১ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ গ্রামীণ এলাকায় এবং ১৮ দশমিক ০৯ শতাংশ শহর এলাকায় বসবাস করেন। অতিরিক্তভাবে, বস্তিতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৮৮০ জন, আর ভাসমান জনগোষ্ঠী ২০২ জন।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বাধিক মানুষ বাস করেন — ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭ জন। অন্যদিকে লৌহজং উপজেলায় জনসংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ জন। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী জেলায় জনসংখ্যা বাড়লেও বার্ষিক বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী জেলার গড় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ছিল ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুরুষ জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আর নারীর ক্ষেত্রে তা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে জেলায় নারী সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
তরুণপ্রধান জেলা মুন্সিগঞ্জ
বয়সভিত্তিক গঠনে দেখা যায়, জেলার ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর হার সবচেয়ে বেশি, যা ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ। পুরুষদের মধ্যে একই বয়সগ্রুপে সর্বাধিক মানুষ (১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ) এবং নারীদের মধ্যে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শ্রেণিতে জনসংখ্যা সর্বাধিক (১০ দশমিক ২০ শতাংশ)। সামগ্রিকভাবে জেলার ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ১৫ বছরের নিচে, ৩০ বছরের নিচে রয়েছে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ৬০ বছরের নিচে ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ মুন্সীগঞ্জ এখনো একটি তরুণপ্রধান জেলা। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, জেলার জনগঠন এখনো কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠীনির্ভর।
বিবাহ ও পারিবারিক অবস্থা
জেলায় বর্তমানে লিঙ্গানুপাত ৯৪ দশমিক ২২। নির্ভরশীলতার অনুপাত ৫৪ দশমিক ৮৮, এবং শিশু-নারী অনুপাত ৩১৫ দশমিক ৪৪। ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বিবাহিত এবং ৩০ শতাংশ অবিবাহিত। গড় বিবাহের বয়সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে— পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৬ দশমিক ৮১ বছর, নারীদের ক্ষেত্রে ১৯ দশমিক ২১ বছর।
ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা
ধর্মীয় গঠনে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলার ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ জনগণ মুসলিম, ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ হিন্দু, ০ দশমিক ০১ শতাংশ বৌদ্ধ, ০ দশমিক ১১ শতাংশ খ্রিস্টান, এবং অন্য ধর্মাবলম্বী ০ দশমিক ০১ শতাংশ।
জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ২২ হাজার ২৬৫জন। যা জেলার মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ; জাতীয় পর্যায়ে এ হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জেলায় প্রতিবন্ধিতার হার পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১ দশমকি ৫৬শতাংশ ও ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, টঙ্গীবাড়িতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হার সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ যা গজারিয়ায় সর্বনিম্ন ১ দশমিক ০৮ শতাংশ।
মুন্সিগঞ্জ জেলায় সাত বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৯০ শতাংশে। পুরুষদের সাক্ষরতার হার ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট— গ্রামে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, আর শহর এলাকায় কিছুটা বেশি, ৭৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জেলায় ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে ৫৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৫০ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষাই সর্বাধিক জনপ্রিয়, যেখানে অংশগ্রহণের হার ৮৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষা ৮ দশমিক ১১ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষা মাত্র ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, এবং অন্যান্য ধরণের শিক্ষা ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।
মুন্সিগঞ্জ জেলার ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ কাজে নিয়োজিত। গৃহস্থালী কাজে ব্যস্ত ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বর্তমানে কাজ খুঁজছেন ১ দশমিক ১০ শতাংশ, আর ৩৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কোনো কাজ করছেন না।
কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ
কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে পুরুষ ৮৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নারী মাত্র ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ৪০ দশমিক ৭৩ শতাংশ কর্মরত রয়েছেন।
সেবা খাতেই বেশি কর্মসংস্থান
জেলার মোট কর্মরত জনসংখ্যার মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেতন বা মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন। খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ সেবা খাতে, ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কৃষিতে এবং ১৬ দশমিক ৪২ শতাংশ শিল্পখাতে নিয়োজিত।
তরুণদের বড় অংশ কর্মশিক্ষার বাইরে
১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৫ জন কোনো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কাজের সঙ্গে যুক্ত নন।
এ সংখ্যা ওই বয়সী জনগোষ্ঠীর ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস
মুন্সিগঞ্জে ৪ হাজার ৮০৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করেন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৩৪৮ জন, নারী ২ হাজার ৪৬০ জন। সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২৪১ জন লৌহজং উপজেলায় এবং দ্বিতীয় সর্বাধিক ৬১৫ জন সিরাজদিখানে বসবাস করেন।
বাসগৃহ ও পানি-স্বাস্থ্যব্যবস্থা
জেলায় মোট ৪ লাখ ২৮ হাজার ২৪৪টি বাসগৃহ রয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৩টি গ্রামে, আর ৬২ হাজার ৩৫১টি শহরে। খাবার পানির উৎস হিসেবে ৯৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ পরিবার টিউবওয়েল ব্যবহার করে, আর ৩ দশমিক ১২ শতাংশ পরিবার সাপ্লাই পানি ব্যবহার করে। টয়লেট ব্যবস্থায় ৬২ দশমিক ৮২ শতাংশ পরিবারে নিরাপদ নিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে, অন্যদিকে ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ পরিবারে অনিরাপদ নিষ্কাশনযুক্ত টয়লেট ব্যবহৃত হয়।
রান্নার জ্বালানিতে কাঠই প্রধান
৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরিবার কাঠ, খড়ি বা লাকড়ি ব্যবহার করে রান্নার জ্বালানি হিসেবে। গ্যাস সংযোগ সুবিধা পায় মাত্র ১৫ দশমিক ৫১ শতাংশ পরিবার।
প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা
জেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬২টি পরিবার প্রবাসী আয় গ্রহণ করে। এদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বাধিক ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সিরাজদিখানে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ পরিবার রয়েছে।
জনশুমারি পদ্ধতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
স্বাধীনতার পর দেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১ সাল থেকে প্রতি ১০ বছর অন্তর এ গণনা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে সিএপিআই পদ্ধতিতে পরিচালিত ষষ্ঠ জনশুমারি ছিল দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর জনগণনা, যেখানে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এসডিজির ১০টি সূচক অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মুন্সীগঞ্জে বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মিলেমিশে বসবাস জেলার সংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যময়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক অপরাধ কমেছে, বাড়ছে নাগরিক নিরাপত্তা— এমনই চিত্র উঠে এসেছে পরিসংখ্যানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
পদ্মা-মেঘনার ভাঙন, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উচ্চশিক্ষার প্রসার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই এখন জনবসতি বৃদ্ধির মূল কারণ হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত এক দশকে জেলা ও উপজেলা সদরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে জনসংখ্যা— ২০১১ সালের পর থেকে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ জন নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন এই অঞ্চলের শহর এলাকায়।বিশেষ করে পদ্মা নদীর ধার ঘেঁষা লৌহজং উপজেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। নদীভাঙনে গৃহহারা অসংখ্য পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উপজেলা সদরে চলে আসছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে এখানকার জনসংখ্যা বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৭৭ জন। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ শহরকেন্দ্রিক হচ্ছে দ্রুত। উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্থায়ী বাসস্থানের চিন্তা— সব মিলিয়ে তারা শহরে জমি কিনে ঘর তুলছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে মুন্সিগঞ্জ শহরে জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৯০৩ জন, যা ২০১১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০৫ জনে। পরবর্তী এক দশকে আরও ৪৮ হাজার ৮৩৪ জন বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯ জনে। বর্তমানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব ১ হাজার ৯৯৯ জন, যা ২০১১ সালে ছিল ১ হাজার ৭৫৭ জন। জনবসতি বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে প্রশাসনিক কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নতুন আড়িয়ল ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় এখন জেলায় মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ৬৮টি।
মুন্সিগঞ্জ জেলার পরিচিতি
মুন্সিগঞ্জ জেলা দেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলা গঠিত হয়। তৎপূর্বে ঢাকা জেলার অধীন মুন্সিগঞ্জ মহকুমা গঠিত হয়।
জেলাটি ২৩°২৩’ ও ২৩°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°১০’ ও ৯০°৪৩′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
এটির উত্তরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ, পূর্বে কুমিল্লা ও চাঁদপুর, দক্ষিণে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এবং পশ্চিমে ঢাকা জেলা। জেলার আয়তন ৯৫৪.৯৬ বর্গকিলোমিটার। পদ্মা ও মেঘনা নদীর কারণে জেলার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে ক্ষয় প্রবণতা রয়েছে।
জেলার প্রধান জলাবদ্ধ এলাকা হলো আড়িয়াল বিল যার আয়তন ১৩৬ বর্গকিলোমিটার।
গজারিয়া, লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ সদর, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও টংগিবাড়ী নামে ৬টি উপজেলা নিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা গঠিত। এ জেলায় ২টি পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। মোট গ্রামের সংখ্যা ৯২৫টি। জেলা সদর দপ্তর মুন্সিগঞ্জ শহরেই অবস্থিত।
জেলার ভাষা, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও রাজনীতিতে যাঁরা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে- শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর, বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রাজনীতিবিদ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক সরোজিনী নাইডু, ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদগুলির মধ্যে শহরের ইদ্রাকপুর দুর্গ (১৬৬০), বজ্রযোগিনীতে পণ্ডিতের ভিটা (অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান), বাবা আদমের মসজিদ, রাজা হরিস চন্দ্রের দিঘী, রাজা বল্লাল সেনের বসতবাড়ি, রামপালের রাজা শ্রীনাথের বসতবাড়ি, রামপাল দিঘি, কোদাল ধোয়ার দিঘি, মিরকাদিম সেতু (পানাম পুলঘাটা) শ্রীনগরের শ্যামসিদ্ধি মঠ, হাসাড়া দরগা, ষোলঘর মঠ, ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি, রাঢ়ীখালে জগদীস চন্দ্র বসুর বাসভবন, সোনারং জোড়া মঠ, টঙ্গীবাড়ির কালীবাড়ি, তালতলার রাজা রাজবল্লভ শিব মন্দির, কুসুমপুরের তালুকদারবাড়ি মসজিদ, তাজপুর মসজিদ, পাথরঘাটা মসজিদ, কাজীশাল মসজিদ, পাঁচ পীরের দরগাহ, হরগঙ্গা কলেজের লাইব্রেরি কক্ষের ভেতরে আশুতোষ গাঙ্গুলীর মার্বেল স্ট্যাটাস উল্লেখযোগ্য।
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলা সেক্টর-৫ এর অন্তর্গত ছিল। মুন্সিগঞ্জ জেলায় পাঁচটি বধ্যভূমি, তিনটি স্মৃতিস্তম্ভ এবং একটি শহিদদের গণকবর মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষ্য বহন করে।


