মুন্সিগঞ্জবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প: জুলাইয়ে খুলে দেয়া হচ্ছে দোতলা রাস্তা, সড়কের কাজ শেষ ডিসেম্বরে
34

মুন্সিগঞ্জ, ৭ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে নারায়ণগঞ্জের চরসৈয়দপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে)। প্রকল্পটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাধীনতার পর থেকেই ঢাকার সঙ্গে দ্রুত ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের দাবি ছিল মুন্সিগঞ্জবাসীর। পদ্মা সেতু চালুর পর সেই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন এ পথে চলাচল করে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে যানবাহনের গতি প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় তলার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি নিচে ৫৪ ফুট প্রশস্ত চার লেনের আধুনিক ও টেকসই সড়ক নির্মাণকাজও চলছে। দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন নির্মাণশ্রমিকেরা।

মুক্তারপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। নির্মাণকাজে নিয়োজিত রয়েছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান—লুকিয়াও গ্রুপ এবং চায়না স্যানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ।

একসময় ধলেশ্বরী নদী ফেরিতে পার হয়ে জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে ঢাকায় যেতে হতো মুন্সিগঞ্জবাসীকে। একই ভোগান্তিতে পড়তেন নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর, কাশিপুর, গোপনগরসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। তবে প্রকল্পটি চালু হলে মুক্তারপুর সেতু পার হয়ে চরসৈয়দপুর থেকে সরাসরি এলিভেটেড সড়কে উঠে পঞ্চবটি ও সাইনবোর্ড হয়ে অল্প সময়েই ঢাকায় পৌঁছানো যাবে।

২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতায় পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে এলিভেটেড সড়কটি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এক্সপানশন জয়েন্ট স্থাপন ও পিচঢালাইয়ের শেষ স্তরের প্রস্তুতি চলছে। এরপর সড়কে রোড মার্কিংয়ের কাজ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এলিভেটেড সড়কে চলাচলের জন্য টোল দিতে হবে। প্রস্তাবিত হারে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশার টোল ৩০ টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও জিপের জন্য ১৫০ টাকা, বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং ট্রাকের জন্য ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে নিচতলার সড়ক ব্যবহারকারীদের কোনো টোল দিতে হবে না। বর্তমানে মুক্তারপুর সেতুর টোল প্লাজা মুন্সিগঞ্জ প্রান্তে স্থানান্তরের প্রস্তুতিও চলছে।

প্রকল্পের আওতায় পঞ্চবটি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার অংশে ছয়টি র‌্যাম্পসহ ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পঞ্চবটি মোড়ে যানজট নিরসনে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক, চরসৈয়দপুরে গোলচত্বর, চারটি টোল প্লাজা এবং ছয়টি ওজন পরিমাপ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুক্তারপুর-চরসৈয়দপুর অংশ চার লেনে উন্নীত হওয়ায় চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন ভবিষ্যতে ঢাকা এড়িয়ে সরাসরি পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে পারবে। শিল্পকারখানা ও বিসিক এলাকা ঘিরে ব্যস্ত এ সড়কে যানজট কমে যাতায়াতের সময় প্রায় ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হবে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের দাবি।

মুন্সিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সড়ক চালু হলে জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ