২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার | সকাল ১১:১৭
দেড় মাস পর ছন্দে ফিরেছে শিমুলিয়া ঘাটের মুক্তাররা
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৫ অক্টোবর, ২০২১, শিহাব আহমেদ (আমার বিক্রমপুর)

প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার রুটে গতকাল পরীক্ষামূলক ফেরি চালানোর পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

দেড় মাস ফেরি বন্ধ থাকায় ছন্দপতন ঘটে শিমুলিয়া ফেরি ঘাট এলাকার ভ্রাম্যমান বাদাম বিক্রেতা মুক্তার (১২) এর। মুক্তার বলছেন, ফেরি বন্ধ থাকায় সে গত কয়েকদিন আশেপাশে ও লঞ্চঘাটের দিকে বাদাম বিক্রি করেছে। তবে সেদিকে বিক্রি কম। এখনো পুরোপুরি আগের বেচা-কেনা শুরু না হলেও সবকয়টি ফেরি চললে বড় যানবাহন আসলে তার বিক্রিও পুরোদমে শুরু হবে।

মুক্তার জানায়, ঘাট স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় তার দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা বিক্রি হয়। এখন হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা।

মুক্তারের মত ফেরিতে যাত্রীদের কাছে আইসক্রিম বিক্রি করে থাকেন আল আমিন (১১)।

আলাপ প্রসঙ্গে আল আমিন জানায়, ফেরিতে ৮ বছর ধরে আইসক্রিম বিক্রি করে সে। ফেরি বন্ধ থাকায় লঞ্চে বিক্রি করেছে গত কয়েকদিন। তবে লঞ্চঘাটের চেয়ে ফেরিঘাট এলাকায় ১০০-২০০ টাকার বিক্রি বেশি হয়।

ফেরিতে শসা, আমড়া বিক্রি করেন সগির আহমেদ (৫৮)। ‘দেড় মাস বইসা রইছি। টুকটাক চলছি। ফেরি না চললে জীবিকা নির্বাহ করতে একটু কষ্ট তো হইছেই’ বলছিলেন সগির।

ঢাকায় পেপে কলা বিক্রি করেন আলমগীর (৫০)। দেশের বাড়ি মাদারীপুর। সাময়িক শারিরীক অসুস্থতায় যাচ্ছেন দেশের বাড়িতে৷ ফেরিতে কথা হয় তার সঙ্গে৷ তিনি বললেন, ফেরি সবসময় চালু রাখা উচিৎ। অসুস্থতার কারনে কত মানুষকে এ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আড়িচা দিয়ে ওতদুর হয়ে ঘুড়ে আসা খুব কষ্ট হয়ে যায়।

শিমুলিয়া ৩ নং ঘাটের অদুরে মুদি দোকানদার রানা (৩২) বললেন, লঞ্চঘাট এখান থেকে কয়েক মিটার দুরে। গত দেড় মাস এদিকে মানুষের আনোগোনা কম ছিলো। এখন আস্তে আস্তে বিক্রি বাড়ছে। সবকয়টি ফেরি চললে আরও বিক্রি বাড়বে।

উল্লেখ্য, পদ্মায় তীব্র স্রোত ও পদ্মা সেতুর সাথে বারবার ফেরির ধাক্কার ঘটনা এড়াতে এর আগে গত ১৮ আগস্ট থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো।

error: দুঃখিত!