মুন্সিগঞ্জে বাবা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় মামলা, কুয়েত প্রবাসীসহ দুইজন গ্রেপ্তার
১৭২

মুন্সিগঞ্জ, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে চার বছরের শিশু তোয়াবাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ এবং তার বাবা গোলাপ হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় সোহরাব হোসেন ও কুয়েত প্রবাসী আমির হোসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সিরাজদিখান থানায় নিহত গোলাপ হোসেনের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এই দুইজনকেই আসামি করা হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. কামরান হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের মোল্লা ব্রিকস ইটভাটার কাছে একটি নির্জন জমি থেকে তোয়াবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। শিশুটিকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

নিহত তোয়াবার বাবা গোলাপ হোসেনও (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তোয়াবা তার বাবার সঙ্গে দাদার বাড়িতে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে বাবা-মেয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় গোলাপ হোসেন বাড়িতে ফিরলেও তোয়াবার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন সকালে ইটভাটার কাছে পরিত্যক্ত জমিতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা।

গুরুতর আহত গোলাপ হোসেনকে প্রথমে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর এলাকার স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও বিষক্রিয়ার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ বলে উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোলাপ হোসেনের বাড়ি রামকৃষ্ণদী গ্রামে। তবে তিনি স্ত্রী শিউলি বেগম ও সন্তানদের নিয়ে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

শিউলি বেগমের অভিযোগ, প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলাও রয়েছে। জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে তাঁর স্বামী ও মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বাবা-মেয়ের ওপর হামলার প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ