আজ রাতে সিনহার মরদেহ দেশে আসছে, জানাজা-দাফন সোমবার মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে
81

মুন্সিগঞ্জ, ১৬ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

প্রয়াত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান সিনহার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে আজ শনিবার রাতে দেশে নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

পরে স্বজন ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের শেষ দেখা শেষে আগামী সোমবার (১৮ মে) মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের কলমা নিজ এলাকায় তার জানাজা নামাজ ও দাফন সম্পন্ন হবে।

পরিবার সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হয়েছে আমার বিক্রমপুর।

দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে (১৬ মে) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন।

সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকায় তার নাম আসে। পরবর্তীতে অসুস্থতার কারণে আসনটিতে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়।

মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়ের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত।

তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ঔষধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিনহা ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ