মুন্সিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার প্রবাসীর স্ত্রী’র ৫ দিন পর মৃত্যু
মুন্সিগঞ্জ, ১৮ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রিতা আচার্য (৪৫) নামে এক গৃহবধূ পাঁচ দিন পর মারা গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা।
রিতা আচার্য উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মাদবরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী হরি আচার্য দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রিতার নবম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে পৃথা আচার্য (১৪) স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে সামনের গেট বন্ধ দেখতে পায়। পরে পেছনের গেট দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রিতাকে উদ্ধার করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
রিতার স্বামীর চাচাতো ভাই সমীর আচার্য জানান, ঘরের মেঝে রক্তে ভেসে ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় রিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ রয়েছে। তবে রিতার মৃত্যুর পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে ওই নারী নিজ বসতঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









