মুন্সিগঞ্জেও প্রথমবারের মত সাড়া ফেলেছে সূর্যমুখী ফুল চাষ
সূর্যমুখী চাষ করে শুরুতেই সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা। যদি কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে সুর্যমুখী চাষ করে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের আশা করছেন কৃষকরা। ফলে একদিকে কৃষক উপকৃত হবে অপর দিকে মিটবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা।
কৃষকরা জানায়, সূর্যমুখীর ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানির জন্য খড়ি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা কেজি থেকে ৪৫০ গ্রাম তেল পাওয়া যাবে। প্রতি জমিতে আলুর ফলনে ক্ষতি না করেও সূর্যমুখী বীজ ভালো উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে আশা করেন তারা। আলুর পাশাপাশি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে তেমন কোনো বার্তি খরচ হয় না। শুধু মাত্র সূর্যমুখী বীজ রোপণ করলেই আলুর পাশাপাশি সূর্যমুখী বেড়ে উঠে।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্য্যরে বাগ গ্রামের কৃষক আতাবর শেখ বলেন, আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে এবং কৃষি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখীর বীজ ও সার পেয়ে ৫ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। বর্তমানে সুর্যমুখী ক্ষেতে ফুল আসতে শুরু করেছে। এমন পরিবেশে সূর্যমুখী ফুল অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার অনেকেই ক্ষেতে ছবি তুলে ফেসবুকে ছবি পোষ্ট করছেন।
‘আমার বিক্রমপুর’ এর সিরাজদিখান প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম চমক জানিয়েছেন, সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের রক্ষিতপাড়া ও কোলা গ্রামে এবং মালখানগর, ইছাপুরা, জৈনসার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে আলুর জমির চারপাশে সূর্যমুখী ফুলের সবুজের চারপাশ হলুদের রাজ্য। চারদিকে হলুদ ফুলের মনমাতানো রূপ। প্রতিটি জমিতে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এছাড়াও মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী, গজারিয়া, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলাতেও এবছর বাণিজ্যিকভাবে র্সূযমুখী ফুলের চাষ হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ শাহ আলম জানান, সূর্যমুখী অতিপরিচিত একটি ফুল। এর তেল গুনে ও মানে অতুলনীয়। সারাবিশ্বে এর ব্যাপক চাহিদা থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। মুন্সিগঞ্জ জেলার জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী মনে হওয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবার প্রথম ৩১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সূর্যমুখী ক্ষেতের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ। ভবিষৎয়ে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ও কৃষকের মধ্যে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়লে বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকেরা সার্বিক উন্নতি করবে।
তিনি কৃষকের প্রতি পরামর্শ জানিয়ে বলেছেন, সূর্যমুখী ফুল যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য টিয়া পাখি ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।





