মুন্সিগঞ্জে অভাবের তাড়নায় একই পরিবারের ৩ জনের অাত্মহত্যা
স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনের সংসার মোমিনের। দুই মেয়ে স্বর্ণা ও সানজিদা একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। স্থানীয় বাজারে মোমিন মাছের ব্যবসা করতেন। কিন্তু ছোট ব্যবসা বলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচসহ সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যেত তাঁর।
বাধ্য হয়ে এক পর্যায়ে তিনি পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ধারদেনা করতে শুরু করেন। এই ধারের টাকা পরিশোধ করতে ক্ষুদ্রঋণ নেন। একদিকে সংসার চালাতে হিমশিম অন্যদিকে ঋণের চাপ। এ নিয়ে প্রায়ই মোমিন ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।
কিছুদিন আগে ঝগড়ার কারণে স্ত্রী লুবনা তাঁর বাবার বাড়ি চলে যান।
গত সোমবার মোমিন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে মুচলেকা দেন যে, আর কখনো স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করবেন না। এই প্রতিশ্রুতিতে তার স্ত্রী ও মেয়েদের বাড়ি আনেন।
মোমিনের বড় মেয়ে স্বর্ণ আক্তার জানায়, আজ (বুধবার) বিকালে আমার বাবা আমাদের সবাইকে নতুন জামাকাপড় কেনার জন্য বাজারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এ সময় স্বর্ণা যেতে রাজি না হওয়ায় তার মা আর ছোট বোনকে নিয়ে চলে যান। সন্ধ্যার পরও তাঁরা বাড়ি না ফিরলে দুশ্চিন্তা হতে থাকে। পরে শুনতে পায় তাঁরা তিনজন বিষ খেয়েছে।তাদের বাড়ির অদূরে একটি জমির মধ্যে পড়ে আছে লাশ।
বুধবার রাত ৯টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালি ইউনিয়নরে শ্রীধরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, আব্দুল মোমিন (৫০), তার স্ত্রীর লুবনা বেগম (৪৪) এবং তাদের ছোট মেয়ে সানজিদা আক্তার (৯)।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস বলেন, মোমিন মাছের ব্যবসা ছিল। মানুষের কাছে শুনেছি মোমিন আর্থিক সংকটে ছিলেন।
শ্রীনগর থানার ওসি এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনজনই বিষ খেয়ে মারা গেছেন। আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ব্যপারে আমাদের তদন্ত চলছে।







