মুন্সিগঞ্জে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক রাখতে সভা: কোল্ডস্টোরেজ- শপিংমল নিয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত
মুন্সিগঞ্জ, ১৩ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
জাতীয়ভাবে জ্বালানি সংকটের কারণে মুন্সিগঞ্জে বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয় নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আলু সংরক্ষণকারী কোল্ড স্টোরেজ ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি শপিংমল, মার্কেট ও দোকান নির্ধারিত সময়ে বন্ধের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মুন্সিগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে জেলা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয় সমন্বয় কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মানোয়ার মোরশেদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যরা।
সভায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয়, অপচয় রোধ, সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং এসব কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, জাতীয়ভাবে জ্বালানি সংকটের কারণে মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জেলার শিল্প ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে জেলার আলু সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে কোল্ড স্টোরেজগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। মুন্সিগঞ্জে আলু সংরক্ষণের জন্য বিদ্যমান ৬০টি কোল্ড স্টোরেজ এবং শিল্পখাতের বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে জরুরি ও উৎপাদনশীল খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চলমান সংকটের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।









