মুন্সিগঞ্জে বাজারে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে স্কুল শিক্ষকসহ অন্তত ৩ জন গুলিবিদ্ধ
মুন্সিগঞ্জ, ১৮ জুলাই ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আঞ্চলিক বাজারে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্কুল শিক্ষকসহ অন্তত ৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- বাঘাইকান্দি গ্রামের আলামিন মাস্টার (৪২), আব্দুল বাসেদ (৪৫) ও কবির (৫৫)। তারা স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের উত্তর-পূর্ব পাশে একটি সেতুর প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাঘাইয়াকান্দি কলিমউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাছ বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জৈষ্ঠীতলা গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল মান্নান ওরফে শুটার মান্নান (৪০) বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়। গুলির শব্দে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সামান্য আহত হন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (১৬ জুলাই) ষোলআনী বালুমহালে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে তিনজন চাঁদাবাজ জনতার হাতে আটক হন। এ ঘটনায় বালুমহালের ক্যাশিয়ার জান্নাত হোসেন বাদী হয়ে হোগলাকান্দি গ্রামের হাবুল বাঘের ছেলে হৃদয় বাঘকে এক নম্বর আসামি করে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর হৃদয় বাঘ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত দশটার দিকে এলাকায় ফিরে এসে শুটার মান্নানসহ তার অনুসারীদের নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় স্থানীয়রা ছয় থেকে সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
শুক্রবার সকালে অভিযুক্তরা পুনরায় বাঘাইকান্দি বাজারে আসে। কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন ব্যক্তি আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করছেন, আহতদের শরীরে শটগানের গুলি লেগেছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দেখা গেছে, দুইজনের শরীরে শটগানের গুলির মতো আঘাত রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









