মুন্সিগঞ্জে শশুরবাড়িতে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, স্বামী পলাতক
মুন্সিগঞ্জ, ৩ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঝর্না আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের তেতৈতলা এলাকায় অবস্থিত হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ঝর্নার নিথর দেহ প্রায় দুই ঘন্টা পড়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে তারা আসে।
মৃত ঝর্না তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী এবং পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার চান্দেরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে ঝর্নার সঙ্গে সুজন দেওয়ানের বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিক সালিশও অনুষ্ঠিত হয়।
ঝর্নার উকিল বাবা রিপন ভূঁইয়া বলেন, বিকেল ৫টার দিকে খবর পাই ঝর্না ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। পরে সুজনদের বাড়িতে গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে গ্রাইন্ডিং মেশিন দিয়ে লোহার দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের একমাত্র বোন তাসলিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সুজন একাধিকবার বিচ্ছেদের জন্য সালিশে বসেছিল। কিন্তু আমার বোন সংসার করতে চেয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠকের কথা ছিল। আমরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সুজন সেখানে আসেনি। পরে খবর পাই আমার বোন মারা গেছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার চাই।
হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আফরাহাম হোসেন (ফাহিম) বলেন, রাত ১০টার দিকে ঝর্নাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী সুজন দেওয়ানের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









