মুন্সিগঞ্জে অটো চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় চালককে খুন, ৩ বন্ধু গ্রেপ্তার-পলাতক ২
17

মুন্সিগঞ্জ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ীতে অটোভ্যান চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় বাশার গাজী (৩৮) নামে এক চালককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় আরও দুজন পলাতক রয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন এবং চুরি হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের তৈলখিলা এলাকার শামীম শেখ (৩৯), কুড়েরপাড় এলাকার রাজন (৩৬) এবং মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ীর মামুদাদপুর এলাকার কাউসার মোল্লা (২৪)। এ ঘটনায় জুয়েল ও দেলু নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা ইউনিট ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত বাশার গাজী নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক এলাকার বাসিন্দা। তিনি টংগিবাড়ীর মামুদাদপুরে একা বসবাস করতেন এবং অটোভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মে পরিবহনের কাজ করতেন। পারিবারিক কলহের কারণে তার স্ত্রী ও সন্তানরা নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে বাশারকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তার বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে উঁকি দিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে টংগিবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কাউসার রাজনের দোকানে গিয়ে অটোভ্যান চুরির জন্য তাকে সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে। পরে রাজন, কাউসার, শামীম এবং শামীমের দুই সহযোগী জুয়েল ও দেলু বাশারের বাড়ির সামনে যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যের বরাতে পিবিআই জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তারা বাশারের বাড়িতে ঢুকে অটোভ্যানটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাশার ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে শামীম ও কাউসারকে চিনে ফেলেন। এরপর পাঁচজন মিলে তাকে মারধর করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে কাউসার বাশারের গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা তার হাত-পা ও শরীর চেপে ধরে রাখে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর বাশারের শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে তারা তাকে মৃত বলে বুঝতে পারে।

ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য পরে তারা বাশারের মরদেহ রশি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে পিবিআই জানিয়েছে। এরপর বাশারের কোমরে থাকা চাবি নিয়ে অটোভ্যানের তালা খুলে সেটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এ ঘটনায় বাশারের স্ত্রী জান্নাতুন নেছা বাদী হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর টংগিবাড়ী থানায় হত্যা ও চুরির অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার ২৪ সেপ্টেম্বর স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে পিবিআই মুন্সিগঞ্জ।

পিবিআইয়ের এসআই আবেদ আলীর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে চুরি হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শীঘ্রই তারা ধরা পড়বেন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ