দীপু মনির সংবাদ সংগ্রহে মুন্সিগঞ্জ কারাগারের সামনে সাংবাদিকদের বাঁধা
19

মুন্সিগঞ্জ, ২০ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

স্বামীর মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে বন্দি দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির খবর সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের বাঁধা দিয়েছে কারা কতৃপক্ষ। এতে তারা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহে বাঁধাপ্রাপ্ত হন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আমার বিক্রমপুরের প্রতিবেদক মো. ইয়াছিন ঢালী জানান, সকাল সাড়ে ৫টায় আমরা কারাগারের সামনে আসি। পরে মুন্সিগঞ্জ জেল ‍সুপার হিসেবে নতুন দায়িত্বে আসা জান্নাত-উল ফরহাদের সাথে যোগাযোগ করে তার কাছে সংবাদ সংগ্রহে সহযোগিতার অনুরোধ জানাই। কিন্তু তিনি সহযোগিতা না করে উল্টো সাংবাদিকরা যাতে গেটের বাইরে থেকেও স্বাধীনভাবে ছবি/ভিডিও ধারণ করতে না পারেন সেজন্য পুলিশের গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে জেল গেট ঢেকে দেন।

পরে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্র থেকে আমরা দীপু মনির ছবি সংগ্রহ করি।

তিনি বলেন, এসময় শুধু আমি এক নই। দেশের সকল শীর্ষ গণমাধ্যমের প্রায় ২০ জন সংবাদকর্মী সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা জেল সুপারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকেই তীর্যক মন্তব্য করেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে মুন্সিগঞ্জ জেল ‍সুপার জান্নাত-উল ফরহাদের সাথে সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে ডেপুটি জেলার মো. মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে বের করা হয়। পরে পুলিশের পাহারায় প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার কলাবাগানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

প্যারোলের আদেশ অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারাগারের বাইরে থাকতে পারবেন দীপু মনি। এরপর তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর আগে বুধবার দুপুরে দীপু মনির মেয়ে তানী দীপাবলি তার মায়ের সাথে কারা অভ্যন্তরে সাক্ষাৎ করে ৪ দিনের প্যারোলের আবেদন করে জেলা প্রশাসকের কাছে। পরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেন।

দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এবং জানাজা ও দাফনসহ পারিবারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে।

দীপু মনির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৭০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্যারোলে মুক্তির পুরো সময়জুড়েই তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকছেন বলে জানা গেছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ