‘আমার বিক্রমপুর’-এর খবর দেখে দুই হাতহীন শিশু মুসাকে জেলা প্রশাসনের আর্থিক অনুদান
7

মুন্সিগঞ্জ, ৪ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

‘জন্ম থেকে দুই হাত নেই মুন্সিগঞ্জের মুসার, অসহায় শিশুটি চায় সাহায্য’ শিরোনামে আমার বিক্রমপুর-এ সংবাদ প্রকাশের পর এবার মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জন্মগতভাবে দুই হাতহীন এবং জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা ৯ বছর বয়সী রাওহাদ হোসেন মুসার পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী শিশু মুসার পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তা বাবদ ২০ হাজার টাকার চেক এবং নগদ আরও ৩০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়।

একইসময় অপর আরও এক অসচ্ছল মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

চেক হস্তান্তরের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জুবায়ের হোসেন এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, সমাজের অসহায়, দুস্থ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো সরকারের মানবিক অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজকল্যাণমূলক এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

গত মাসে আমার বিক্রমপুর-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে লৌহজং উপজেলার শামুরবাড়ি গ্রামের রাওহাদ হোসেন মুসার করুণ জীবনের গল্প। জন্ম থেকেই দুই হাত ছাড়া পৃথিবীতে আসা মুসা বর্তমানে আরও একটি জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। তার প্রসাবের রাস্তা দিন দিন সরু হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। ধারদেনা ও মানুষের সহায়তায় কিছুদিন চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়।

পদ্মা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারটি বর্তমানে ভাড়া নেওয়া জমিতে বসবাস করছে। অটোরিকশা চালিয়ে সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চালান মুসার বাবা। স্থানীয় আদর্শ বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মুসার সবচেয়ে বড় চাওয়া দুই হাত নয়, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা।

আমার বিক্রমপুর-এ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। লৌহজং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও ফারজানা ববি মিতু ছেলেটির বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ