১০ কোটির মালিক ইসলামী আন্দোলনের বিল্লাল, ‘শূন্য’ সম্পদ নিয়ে মাঠে আমিনুল
মুন্সিগঞ্জ, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের হলফনামায় উঠে এসেছে সম্পদের নানা চমকপ্রদ তথ্য।
মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং–টংগিবাড়ী)
লৌহজং ও টংগিবাড়ী নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ ২ আসনে ৭জন ব্যক্তি প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে তারা সকলেই বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের (৬৪) হলফনামা অনুযায়ী, তার ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও প্রায় ১ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। যদিও তার ওপর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঋণের চাপ রয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। প্রতিষ্ঠান দেখিয়েছেন- খান ট্রেডিং এন্ড কোম্পানি- সি এন্ড এফ এজেন্ট পরিচালক।
সি এন্ড এফ (C&F) এজেন্ট মানে হলো ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট (Clearing and Forwarding Agent), যারা আমদানি-রপ্তানির জটিল প্রক্রিয়া সহজ করে, বিশেষত কাস্টমস ছাড়পত্র (Clearing) এবং পণ্য গন্তব্যে পাঠানো (Forwarding) সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে থাকে; তারা শুল্ক বিভাগ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সমস্ত কাগজপত্র ও নিয়মকানুন দেখভাল করে।)
এছাড়া তিনি হলফনামায় কৃষিখাত থেকে আয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন।
এই আসনে বিস্ময় তৈরি করেছেন ইসলামী আন্দোলনের কে এম বিল্লাল (৩৭)। আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৮৭ টাকার।
ব্যবসায়ী হিসাবে তার ও তার স্ত্রীর নামে নগদ সাড়ে ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৬ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে কেরানীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও মিরপুরে ৫টি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এছাড়া বসুন্ধরা সিটিতে রয়েছে একটি দোকান।
তবে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে হলফনামায় কোন তথ্য দেননি। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন- এইচএসসি। ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৩কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৬৩০ টাকার।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
ব্যাংকার ও বিনিয়োগকারী হিসাবে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ৩.২৫ শতাংশ জমির উপর ৬তলা বাড়ির ১৭.৫০ শতাংশ শেয়ার, একই এলাকায় ২০ শতাংশ জমিতে টিনশেড বাড়ি এবং ৫তলা জমির উপর আরও একটি ৬তলা বাড়ির ১৭.৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে মাজেদুলের।
উত্তরাধিকার সূত্রে নিজের ২০ ও স্ত্রীর (উপহার+উত্তরাধিকার) ৩৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ৫১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৯ টাকা। ব্যাংক ঋণ রয়েছে ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬০ টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবিএম ফজলুর করীমের (৬৫) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ৭৯ লাখ ৮ হাজার টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা- বি. এ অনার্স ও মাষ্টার্স। পেশা-চাকরি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী নোমান মিয়ার (৫৩) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা- বি.এস.এস। পেশা-ব্যবসা।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আশিক মাহমুদের (৩৭) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে মোট বৈধ সম্পদ ১২ লাখ টাকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা- এমবিবিএস। পেশা-চিকিৎসক।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলামের (৪৭) আয়কর রিটার্নের বিপরীতে তার নিজের নামে কোন বৈধ সম্পদ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্ব-শিক্ষিত। পেশা-ব্যবসা।









