সোনিয়া হত্যকান্ড; বখাটে রাজনকেই দায়ী করছেন স্বজনরা
গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার (১৯) হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের মানুষ।
সোনিয়া ওই গ্রামের শহিদ উল্লার মেয়ে। এলাকার বখাটে রাজনকে সোনিয়া হত্যার জন্য দায়ী করছেন তার স্বজনরা।
সোনিয়া মৃত্যুর আগে রাজনের নাম উল্লেখ করে তার ওপর নৃশংসতার বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
গত সোমবার সকালে গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত। টানা চারদিন ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন সোনিয়া।
চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের প্রায় ৯০ ভাগই পুড়ে গিয়েছিল।
মেধাবী শিক্ষার্থী সোনিয়ার মৃত্যুর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।
প্রতিবাদ-মুখর এলাকাবাসী দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রতিদিন পালন করছে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি।
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সোনিয়ার সহপাঠী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
শোকবিহ্বল সোনিয়ার বাবা শহিদ উল্লাহ ও মা হাজেরা বেগম। চোখের সামনে মেয়ের এমন পরিণতি কিছুতেই মানতে পারছেন না তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের এই পরিণতির জন্য দায়ীদের ফাঁসির দাবি জানান হাজেরা বেগম।
এ ঘটনার জন্য স্থানীয় বখাটে রাজনকে (৩৫) দায়ী করেন তিনি।
তিনি জানান, রাজন দীর্ঘদিন ধরে সোনিয়াকে বিরক্ত করত। সম্প্রতি তার বিয়ে ঠিক হওয়ায় রাজন ক্ষিপ্ত হয়ে এ কাজ করেছে।
আহত সোনিয়ার জবানবন্দিতেও রাজনের নাম উঠে এসেছে বলে জানান তার মামা আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, হাসপাতালে সোনিয়া তাকে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। রাজনই তার গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। বাঁচার জন্য পাশের পুকুরেও ঝাঁপ দিয়েছিল ছনিয়া।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হলেও সন্দেহের তীর যার দিকে, সেই রাজনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
গতকাল রোববার সকালে নিহত সোনিয়ার বাড়িতে যান মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম (পিপিএম)।
তিনি সোনিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ও ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে, বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে আমরা তদন্ত করছি। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, অভিযুক্তদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।







