বেহাল দশা রিকাবীবাজার-কমলাঘাট নৌবন্দর সড়কের
143

সংস্কারের অভাবে মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবীবাজার-কমলাঘাট নৌবন্দর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশের খোয়া উঠে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
এর ফলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কমলাঘাটের ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রায় আট বছর ধরে সড়কটি এমন বেহাল। সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ যে একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের পরে তৈরি হয় কাদা। তখন বোঝার উপায় থাকে না যে এটি সড়ক, না চষা জমি।

কমলাঘাট বণিক সমিতি সূত্র জানায়, কমলাঘাট এলাকায় কয়েক শ ধান-চালের আড়ত, খৈল, ভুসিমাল ও সরিষার তেল তৈরির কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া এখানে কয়েকটি খাদ্যগুদাম ও একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। বন্দরের ব্যবসায়ী ও ছাত্রছাত্রীদের এ সড়কটি দিয়েই চলতে হয়। সড়কটি বেহাল হওয়ার কারণে ধান-চালের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র কমলাঘাট জৌলুশ হারাতে বসেছে। পাইকার ও ব্যবসায়ীরা পণ্য কেনা-বেচা করতে পরিবহনের সমস্যার কথা ভেবে দিনদিন বন্দরে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে বন্দরটি প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।

কমলাঘাটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য বাজারের ব্যবসায়ীরা মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহীদুল ইসলামকে কমলাঘাট বণিক সমিতির সভাপতি করেন। কিন্তু তিনি সভাপতি হওয়ার পরেও সড়কটির বেহাল অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাঘাট সেতুর ঢাল থেকে পলিটেকনিকে যাওয়ার পথে প্রায় এক কিলোমিটার অংশে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছে। রিকশা নিয়ে চালককে হেঁটে চলতে হচ্ছে। পথচারীরা সড়কের দুপাশের দোকান ঘেঁষে কষ্ট করে চলছে। অনেকে জুতা হাতে নিয়ে পার হচ্ছে।

কমলাঘাটের ব্যবসায়ী তমিজল বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে এখন হাঁটাচলা দায়। রাস্তা বেহাল হওয়ায় ঘাটে মানুষজন আর আগের মতো আসে না। এ কারণে জুন থেকে স্টেশনারি দোকানের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি।’

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মো. তাবরিজ বলেন, প্রতিদিন কয়েক শ ছাত্রছাত্রীকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টি হলে কাদায় জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।

ওই এলাকার নারী কাউন্সিলর শিউলি আক্তার বলেন, ‘সড়কটি মেরামত করার জন্য অনেকবার বলেছি, কিন্তু হচ্ছে না।’

কমলাঘাট বণিক সমিতির সভাপতি ও মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা আসলেই খারাপ। তবে আমি বণিক সমিতির সভাপতি হওয়ার পর সড়কটির মাঝখানে যেসব বিদ্যুতের খুঁটি ছিল সেগুলো একপাশে সরিয়েছি। বন্দরের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সড়কের ওপরে চলে আসায় সেগুলো সরাতে দেরি হচ্ছে। দোকানগুলো সরাতে পারলে শিগগিরই সড়কটি মেরামতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ