টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপনির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত
টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপনির্বাচনের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছেন চেম্বার বিচারপতি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ আদেশ দেন।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ব্যক্তিগত ক্ষমতায় শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী।
পরে রাগিব রউফ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেটা স্থগিত চেয়ে গতকাল ইসি আবেদন করে। আজ আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য ২ নভেম্বর দিন ধার্য করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন এ কারণে আপাতত নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।’
এর আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আবেদন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২১ অক্টোবর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর ভাই লতিফ সিদ্দিকী।
গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সে মোতাবেক আগামী ১০ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ঋণ খেলাপের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর গত ১৬ অক্টোবর এই দুই নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন।
১৮ অক্টোবর বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে রায় দেন। এ খারিজ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী।









