মুন্সিগঞ্জে সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে গিয়ে গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্ক, ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল; ইমাম গ্রেপ্তার
মুন্সিগঞ্জ, ১ নভেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ীতে এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে শারীরিক সম্পর্কের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নূর আলম শেখ (৩২)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলিগাতী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মরহুম ইয়াকুব আলী শেখ এবং মায়ের নাম মিনা বেগম। তিনি বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, নূর আলম শেখ টংগিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে প্রায় ১৮ মাস ধরে ইমামতি করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে তার বাড়িতে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন তিনি। এ সময় শিশুটির মায়ের সঙ্গে প্রলোভনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নূর আলম। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে গোপনে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন তিনি।
প্রায় এক মাস আগে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটি নূর আলমকে ইমামতি থেকে বহিষ্কার করে এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর থেকে ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন তিনি। পাশাপাশি তার সঙ্গে দেখা করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে নিজের ধারণ করা একটি আপত্তিকর ভিডিও ওই গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে অনলাইনে পাঠান নূর আলম। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করার জন্য চাপ দিতে থাকেন তিনি।
এ ঘটনায় সংবাদ পেয়ে গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশ, উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বিপিএম ও উপপরিদর্শক রেজাউল কাজীর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল শ্রীনগর থানার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখান থেকে নূর আলম শেখকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে টংগিবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।









