মুন্সিগঞ্জে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাই লোডশেডিং, গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন
1

মুন্সিগঞ্জ, ১১ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মুন্সিগঞ্জে বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে দুপুর, বিকেল থেকে সন্ধ্যা—কোনো সময়ই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে রাতের বেলায়। ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচণ্ড গরমে ঘরে টেকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ কখন আসবে, তারও নির্দিষ্ট সময় জানা যাচ্ছে না।

মুন্সিগঞ্জ সদর, শ্রীনগর, লৌহজং ও সিরাজদিখানসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। লৌহজংয়ের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক মাস ধরে ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগও রয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎহীন

স্থানীয় গ্রাহকদের ভাষ্য, কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোটামুটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও বাকি সময় লোডশেডিংয়ে কাটছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে না। এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘দিনে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না, রাতে ঘুমানোর সময়ও চলে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে থাকবে?’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কোনো ঠিক নেই। ফ্যান চালানো যায় না, পানির পাম্প চালানো যায় না। বাসায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ থাকলে কষ্ট আরও বেশি।’

ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা ও পড়াশোনা

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎনির্ভর দোকান ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রনির্ভর ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারছে না। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা পরিবারগুলোর ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

গরমে রাতে ঘুম নেই

দিনের তুলনায় রাতের লোডশেডিং নিয়ে মানুষের অভিযোগ বেশি। গরমের মধ্যে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। জানালা খুলেও স্বস্তি মিলছে না বলে জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা—দুইয়ে মিলে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে মুন্সিগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভও করেন গ্রাহকেরা।

সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব

মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, জেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির চাপ সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে পড়ছে।

তবে গ্রাহকদের দাবি, সরবরাহ সংকট থাকলে অন্তত এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সময়সূচি প্রকাশ করা হোক। এতে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাবেন তাঁরা।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ