মুন্সিগঞ্জে সাপের কামড়ে মৃত্যু যুবককে জীবিত দাবি ওঝার, দ্বিতীয়বার মৃত ঘোষণা
মুন্সিগঞ্জ, ২৩ জুলাই, ২০২১, সদর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বাড়ির পাশে ঘাস কাটতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের কামড়ে ১৮ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের দাবি, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় ঐ যুবকের প্রাণ গেছে।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন হাসপাতালে সাপে কাটার চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন ড. আবুল কালাম আজাদ বলছেন, সাপের অ্যান্টিভেনম হাসপাতালে থাকলেও, তা না থাকার মতো। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা কেউ এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের ব্যবহার জানে না। তাই কোন ডাক্তার এই ইনজেকশন দেওয়ার সাহস করে না। তাই সাপে কামড়ের রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১ টা’র দিকে সদর উপজেলার পঞ্চসার এলাকার রামেরগাও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত সাজ্জাদ হোসেন (১৮) রামেরগাও এলাকার আনিস দেওয়ানের ছেলে।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুপুর ১ টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিষধর সাপ সাজ্জাদকে কামড় দেয়। পরে তাকে গুরতর আহত অবস্থায় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ব্যাথানাশক ইনজেকশন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে জেনারেল হাসপাতালে শাপে কামড়ের ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর ঢাকা নেওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জে শহরের রাস্তায় দুপুর ২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এরপর তাকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার কবর তৈরি করা হয়। গোসল শুরু হয়। এমন সময় কয়েকজন সাজ্জাদ কে জীবিত দাবি করেন।
পরে মুন্সিগঞ্জ শহরের পাশের ৫ ওঝা দীর্ঘ সময় ঝাড়ফুক দিয়ে ব্যার্থ হওয়ার পর তারা চলে যায়। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার ওঝা মানিক এসে দাবি করে সাজ্জাদ জীবিত আছে। তার কথা অনুযায়ী আবার তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৮ টা’র দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।


