মুন্সিগঞ্জে বাড়ির পাশে ঘাসের জমিতে পড়েছিল মরদেহ, ভাইকে নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল প্রভাবশালীদের সঙ্গে
79

মুন্সিগঞ্জ, ১৪ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ পৌর এলাকায় ছোট ভাইয়ের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল মো. আরিফ বেপারীর (৩২) পরিবারের। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

আজ রোববার সকাল ৮টার দিকে পৌরসভার জসিমনগর এলাকার একটি ঘাসের জমি থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আরিফ বেপারী পৌরসভার পাঁচঘড়িয়া এলাকার প্রয়াত মতিন বেপারীর ছেলে। তিনি মুন্সীরহাট বাজারে তার ভাইয়ের সাথে কসাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি মুন্সীরহাটসংলগ্ন জসিমনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আরিফের ছোট ভাইয়ের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমেদের ছোট ভাই বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেন ও তাঁর লোকজনকে দায়ী করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আছি। যে ঘটনা আপনারা শুনেছেন তার সবটা সত্য নয়। সত্য-মিথ্যা আছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে এলাকার কয়েকজন নারী তাঁদের বাড়ির পাশের ঘাসের জমিতে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফের মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, আরিফের ছোট ভাই আকাশ বেপারী মুন্সীরহাট বাজারে কসাইয়ের কাজ করতেন। সেই সূত্রে পাশের চরকিশোরগঞ্জ এলাকার কসাই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন হয়। ওই লেনদেনের কারণে নূর মোহাম্মদের কাছে আকাশের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা চাইতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রায় ছয় মাস আগে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।

স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার সকালে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে আকাশ নূর মোহাম্মদকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাঁকে মুন্সীরহাট বাজার কসাই সমিতির জিম্মায় রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেন দলবল নিয়ে সেখানে গিয়ে নূর মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আরিফসহ উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাজারের লোকজন এনায়েত হোসেনকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্বজনদের দাবি, ওই ঘটনার পর এনায়েত হোসেন ও তাঁর লোকজন আরিফ এবং আকাশকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।

নিহতের ছোট ভাই আকাশ বেপারী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় প্রভাবশালী এনায়েত হোসেনের ছেলে, ভাতিজাসহ কয়েকজন আমাকে মারার জন্য খুঁজেছে। আমি কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে যাই। তাঁরা কয়েকবার আমাদের এলাকায় এসে আমাদের খুঁজেছে। আজ সকালে ভাইয়ের মরদেহ পেয়েছি। তাঁকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, এ ঘটনার সঙ্গে নূর মোহাম্মদ ও এনায়েত হোসেনের লোকজন জড়িত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনায়েত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সকালে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে ওই যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ