১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | দুপুর ১২:২৪
মুন্সিগঞ্জে পিতাকে পঙ্গু করে পুত্রকে গুলি করে হত্যা, মামলা দায়ের
খবরটি শেয়ার করুন:
221

মুন্সিগঞ্জ, ২৭ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক, গজারিয়া (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় জয় সরকার (২৬) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেকু হাসান-লালু গ্রুপের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে একই গ্রুপ জয়ের বাবাকেও কুপিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন জান্নাতি বাদী হয়ে ২২ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

নিহত জয় সরকার উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর চৌদ্দ কাউনিয়া গ্রামের মো. জামাল হোসেনের একমাত্র ছেলে।

জানা যায়, গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলা বাউশিয়া ইউনিয়নের চর চৌদ্দ কাউনিয়া গ্রামের খেয়াঘাট ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের পাশের পতিত জমিতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামাল সরকার এবং তাঁর ভাইয়েরা স্থানীয়ভাবে নিরীহ ও সাধারণ জীবনযাপন করেন। তাঁরা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চালানো, সিএনজি চালানো ও কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বছর দুই আগে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেকু হাসান গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁরা বেকু হাসান গ্রুপের চক্ষুশূলে পরিণত হন। পরবর্তীতে একই কারণে পাশের গ্রামের লালু গ্রুপের সাথেও তাঁদের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ তাঁদের উপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৪ মাস আগে এই বিরোধের জেরে হামলা করে জামাল সরকারকেও কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর ছোট ভাই মুক্তার হোসেনের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। দুর্বিষহ জীবনযাপন করা সেই পরিবারের একমাত্র সন্তান এখন হত্যাকাণ্ডের শিকার।

বাকরুদ্ধ পঙ্গু বাবা জামাল হোসেন অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, ছেলে জয় সন্ধ্যায় ফুফুর বাড়িতে এসেছিল। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্থানীয় দেলোয়ার, স্বাধীন ও পান্নু জয়কে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই বাড়ি থেকে একটু সামনে সড়কের পাশ থেকে গুলির বিকট শব্দ শুনতে পান। পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই টগবগে যুবকটিকে তারা গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পরে স্থানীয় ও আত্মীয়-স্বজনরা জয়কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জয়ের বড় বোন জুলিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাবাকে কুপিয়ে পঙ্গু ও চাচাকে কুপিয়ে কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সেই মামলায় আসামিরা জামিন নিয়ে এসে প্রতিনিয়ত আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। এখন আমরা কোথায়, কার কাছে গেলে বিচার পাবো? আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ আজ রাতেই বাড়িতে চলে আসবে এবং দাফন-কাফনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।