১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | সকাল ৬:৪১
মুন্সিগঞ্জে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে শতাধিক গরু, মৃত ‍উদ্ধার ৪১টি
খবরটি শেয়ার করুন:
119

মুন্সিগঞ্জ, ২৩ মে ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ্ন খালে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে অন্তত ১০জন খামারির ৩০টি কোটি টাকা মূল্যের শতাধিক গরু। পরে পানিতে মৃত্যু হয়ে শরীর ফুলে ভেসে উঠেছে ৪১টি। বাকিগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। কোরবানির ঈদের আগে এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্থরা।

জানা যায়, আজ শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে হোসেন্দী ইউনিয়নের ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ খাল পার হতে গিয়ে গরুগুলোর এই পরিণতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামল খান জানান, ভাটি বলাকী গ্রাম সংলগ্ন চরে খাস খাইয়ে গরুগুলো লালন-পালন করেন খামারিরা। গ্রাম এবং চরের মধ্যে ছোট একটি খাল রয়েছে। খাল পাড়ি দিয়ে চরে গিয়ে ঘাস খেয়ে প্রতিদিন বিকালে গরুগুলো আবার গোয়ালে ফিরে আসে। আজ বিকালে খাল পাড় হবার সময় হঠাৎ জোয়ারের পানির তোড়ে এবং কচুরিপানার চাপে শতাধিক গরু ভেসে যায়। এর মধ্যে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ৪১ টি মৃত গরু উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টির মত গরু নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক মহসিনের ৪টি, নাহিদের ৩টি, ইয়ানূরের ৩টি, এমার ২টি, মাসুমের ১টি, আবুল হোসেনের ৩টি, শাহজালালের ৩টি, কবির হোসেন খানের ৩টি, শরিফ শরিফ হোসেনের ৩টি, তরিকুল ইসলামের ২টি সহ শতাধিক গরু পানির তোড়ে ভেসে যায়।

ভুক্তভোগী কৃষক মহসিন বলেন, ‘ এমন ঘটনা জীবনেও ঘটে নাই। এমন কিছু ঘটতে পারে তা আমরা চিন্তাও করি নাই। আমার ৪টি গরু পানির তোড়ে ভেসে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি, পথের ফকির হয়ে গেছি’।

ভুক্তভোগী আবু তালেব সুজন খান বলেন, ভাটি বলাকী গ্রামের ২৫/৩০টি পরিবারের ৫ শতাধিক গরু আছে। গরুগুলো গ্রামের পার্শ্ববর্তী চরে ছেড়ে দেয়া হয়। শুক্রবার বিকাল চারটার দিকে ঘাস খেয়ে চর থেকে গ্রামের দিকে ফেরার পথে তীব্র স্রোতে শতাধিক গরু পানির সাথে ভেসে যায়। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত গরুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে’।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নেয়ামূল হক বলেন, ‘দেখলাম কচুরিপানার চাপে ও জোয়ারের পানির তোড়ে একের পর এক গরু ভেসে যাচ্ছে। এরকম অদ্ভুত ঘটনা কখনো দেখিনি আমরা’।

গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরাফাত বিন ছিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছি আমরা। আমাদের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা তাদের সাহায্য করবো’।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।