বাসায় ফিরে এসেছেন মুন্সিগঞ্জের সেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ‘পছন্দের ছেলে’র সাথে ছিলেন কক্সবাজারে
মুন্সিগঞ্জ, ৬ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালপদিয়া এলাকার সেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিছা আক্তার অবশেষে বাসায় ফিরেছেন। গতকাল রোববার রাতে পুলিশ তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আনিছা আক্তারকে অপহরণের অভিযোগ এনে তার মা আরজু বেগম সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ জুন দুপুরে কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মালখানগর কলেজ রোড এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এ ঘটনায় দক্ষিণ তাজপুর এলাকার শামসুল শেখের ছেলে মো. হানিফ শেখ এবং তার ৪-৫ জন সহযোগীকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিছা নিখোঁজ থাকায় ২ জুলাই শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তার মা দাবি করেন, মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্তরা পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিল এবং এ ঘটনায় আতঙ্কের কারণে তার অপর সন্তানও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল তাদের বাড়িতে গেলে মা আরজু বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেননি।
তবে বাড়িতে ফেরার পর পুলিশকে আনিছা আক্তার জানান, তাকে অপহরণ করা হয়নি। তিনি নিজের ইচ্ছায় মো. হানিফ শেখের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আনিছা জানান, গত ২৯ জুন ঢাকার একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি মো. হানিফ শেখকে বিয়ে করেন। পরে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের কাবিন সম্পন্ন হয়। কাবিননামা অনুযায়ী, আনিছার বয়স ২০ বছর এবং হানিফ শেখের বয়স ৩০ বছর। বিয়েতে দুইজন সাক্ষীও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর তারা কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়।
এদিকে, হানিফ শেখের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হলেও আনিছার মা তাতে সম্মতি দেননি বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, কাবিননামা এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









