মেট্টোরেল আসছে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত, ১৫-২০ মিনিটে ঢাকা যেতে পারবে মুন্সিগঞ্জবাসী
248

মুন্সিগঞ্জ, ৩ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর রুট এলাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মুন্সিগঞ্জবাসীর জন্য। মেট্রোরেলটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২-এর রুট এলাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত রুটটি হবে—গাবতলী, ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ট, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাজলা, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি, শিবুমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ।

মন্ত্রী জানান, গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা খুঁজতে পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। নীতিগত অনুমোদন ও অর্থায়নের সিদ্ধান্তের পর প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

একই সঙ্গে এমআরটি লাইন-৪-এর আওতায় কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল ও পাতাল সমন্বিত মেট্রোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কে-এক্সিম ব্যাংক। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৮৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রতিবেদন যাচাই শেষে তা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কাছে পাঠানো হলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

স্থানীয়দের মতে, মুন্সিগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ প্রতিদিন কর্মস্থল, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তাই নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত মুন্সিগঞ্জবাসীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুখবর।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর থেকে পঞ্চবটি এলাকায় নির্মাণাধীন উড়াল সড়কের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই সড়ক চালু হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ শহরে পৌঁছাতে সময় আরও কমে আসবে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেল চালু হলে মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছে সেখান থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ওপর সড়কপথের চাপ কমবে, যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে এবং মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ