মুন্সিগঞ্জের ‍কিংবদন্তী, স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
173

আজ ১১ জানুয়ারি, সোমবার দেশের স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে গত বছরের এই দিনে তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের পরিচালক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একুশে পদকজয়ী নির্মাতা, কালজয়ী চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় শ্রীনগর উপজেলার সমষপুরে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া রাজধানীর কবি জসিম উদ্দিন রোডে তার বাসভবনে কোরআনখানি ও দরিদ্র ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে চাষী নজরুল ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

খ্যাতিমান এ চলচ্চিত্র পরিচালক ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেণ। ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর বিক্রমপুর শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে আজকের চাষী নজরুলের জন্ম। চাষী ছিলেন বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠপুত্র। বাবা মোসলেহ উদ্দিন আহম্মদ, ভারতের বিহারে টাটা আয়রন এন্ড স্টীল কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বাবা মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ লস্করের পূর্বপুরুষেদের সমন্ধে যা জানা যায় সে অনুযায়ী প্রথম পুরুষ আমিন লস্কর, তারপর মোমেন লস্কর। এভাবে আহমেদ লস্কর, জরিপ লস্কর তারপর চাষীর দাদা হেলাল উদ্দিন আহমদ লস্কর। জানা যায়, শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক চাষীর নাম রেখেছিলেন। চাষীর মামা চাষী ইমাম উদ্দিন শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন এবং নবযুগ ও লাঙ্গল পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সূত্রেই একদিন ফজলুল হককে একটা নাম দিতে বলা হলে তিনি চাষী ইমাম উদ্দিনের ‘চাষী’ আর কাজী নজরুল ইসলামের ‘নজরুল ইসলাম’ মিলিয়ে একটা নাম দেন।

১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনিই প্রথম নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭২-এ মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুলের আত্মপ্রকাশ করেন। এছাড়া নিয়মিত বেতারে, টিভিতে সান্ধ্য অভিনয় অব্যাহত ছিল।

চলচ্চিত্রের প্রায়াত এ নির্মাতা একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ জীবনে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক পান। চাষী নজরুল ইসলাম চারবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ