মুন্সিগঞ্জে গণধর্ষণে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ন্যায়বিচারের আকুতি পরিবারের
12

মুন্সিগঞ্জ, ৮ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অস্ত্র দেখিয়ে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় নির্যাতনের শিকার হয়ে কিশোরীটি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেশী তিন তরুণের বিরুদ্ধে এই পৈশাচিক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর অসহায় পরিবার।

নিপীড়নের শিকার কিশোরী উপজেলার একটি অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার বাবা ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী, বড় বোন স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক এবং মা বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবুর্চির সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

প্রতিদিন কাজের তাগিদে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগ কাজে লাগায় প্রতিবেশী তাজুল ইসলামের ছেলে ইসমম (১৮)।

প্রায় পাঁচ মাস আগে কিশোরীর গলায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে প্রথম তাকে ধর্ষণ করে ইসমম এবং সেই দৃশ্য গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখে।

পরবর্তীতে ওই ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইসমম একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে।

এখানেই শেষ নয়, একই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করে ইসমমের দুই বন্ধু মারুফ (১৯) ও অহিদুলও (১৮) তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগপত্রে এসব দাবি করা হয়।

সম্প্রতি মেয়েটির শারীরিক অবয়বে পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

​ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগীর বড় বোন বলেন, পেটের তাগিদে আমি আর মা দিনে বাইরে কাজ করি। ঘর খালি থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী যুবক আমার বোনের জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ধর্ষণের পর ভিডিও রেখেছিল। পরে সেই ভয় দেখিয়ে আরও দুইজন নির্যাতন করেছে। আমরা গরিব মানুষ বলে কি বিচার পাব না? জড়িতদের ফাঁসি চাই।

কিশোরীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে ডাক্তারের কাছে নিলে জানতে পারি সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভয়ে এতদিন মুখ খোলেনি, এখন ইসমম, মারুফ ও অহিদুলের নাম বলেছে। আমরা এই নৃশংস অপরাধের বিচার চাই, সব আসামির শাস্তি চাই।

এদিকে মূল অভিযুক্ত ইসমম তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত অপরাধী শনাক্তে তিনি ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার দাবি জানান।

অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ