মুন্সিগঞ্জে সরকারি জমিতে বিএনপি নেতার ‘ব্যক্তিগত কার্যালয়’, প্রশাসন নিরব!
মুন্সিগঞ্জ, ২৮ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদরের বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের ভাঙ্গা এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেষে সরকারি জমির ওপর ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতা দাবি করেছেন, তিনি সরকারি জমিটি লিজ নিয়েছেন। তবে লিজের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এমনকি কোন সরকারি দপ্তর থেকে লিজ নিয়েছেন, সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।
অভিযুক্ত খোরশেদ মুন্সী বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে ভাঙ্গা যাত্রী ছাউনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা-টংগিবাড়ী সড়কে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেষে সরকারি জমিতে টিনের ছাউনি দিয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনটির ইটের গাঁথুনি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে লোহার জানালাও বসানো হয়েছে।
এসময় সেখানে কর্মরত দুই শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, খোরশেদ মুন্সীর নির্দেশনায় তারা ভবনটির নির্মাণকাজ করছেন। তারা আরও জানান, ভবনের অধিকাংশ কাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শুধু প্লাস্টার ও অন্যান্য ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, যাত্রী ছাউনির পাশের জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সেখানে হঠাৎ করেই ইট-বালু এনে ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ শুরু হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যদি সম্প্রসারণের প্রয়োজন হয় স্থাপনার কারণে সে কাজ বাঁধাগ্রস্থ হবে।
তাদের দাবি, সরকারি জায়গা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে অন্যরাও একই ধরনের দখলচেষ্টায় উৎসাহিত হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদ মুন্সী আমার বিক্রমপুরকে বলেন, ‘আমি ও স্থানীয় আকবর শেখ প্রায় দুই মাস আগে ১০০ ফুট জায়গা লিজ নিয়েছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কার্যালয় করছি। আমরা এখানে বসব। এর আগেও জায়গাটি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তখন এলাকার কিছু লোক ঝামেলা করায় কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার নতুন করে লিজ নিয়েছি।’
তবে কোন সরকারি দপ্তর থেকে লিজ নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে পারেননি। লিজ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক। যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।








