মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল: রোগীকে ক্লিনিকে যেতে ভিজিটিং কার্ড, দুই ডাক্তারকে শোকজের নির্দেশ এমপির
17

মুন্সিগঞ্জ, ১২ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

২৫০ শয্যা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।

শোকজের নির্দেশ পাওয়া দুই চিকিৎসক হলেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন) ডা. অনিরুদ্ধ মন্ডল ও বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাঈম খান।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে বসেই রোগীদের বাইরের চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দেওয়া এবং বহিরাগত ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ওই দুই চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশ্রাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। সভা শেষে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের নতুন ভবনের পেছনে থাকা বাসাবাড়ি এবং হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ও বারান্দা থেকে ফেলা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ঘুরে দেখেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতাল এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমও পরিচালনা করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে দুই রোগী সংসদ সদস্যের কাছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁদের একজন নারী রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার এক চিকিৎসক তাঁকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে সেখানে চিকিৎসা নিতে যেতে বলেন।

অন্যদিকে, হাসপাতালের ১২২ নম্বর কক্ষে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে যাওয়া আরেক রোগীর হাতেও একটি ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রোগীকে বলা হয়, হাসপাতালের সামনের একটি ক্লিনিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়।

অভিযোগ শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ১২২ নম্বর কক্ষে যান সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। সেখানে এক নারীকে ঝাড়ু দিতে দেখেন তিনি। ওই নারীর পরিচয় ও হাসপাতালে কাজ করার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান এমপি। জবাবে ওই নারী জানান, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁদের দুজনকে সেখানে কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের অন্য চিকিৎসক কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর বিষয়ে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কোনোভাবেই বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো যাবে না। হাসপাতালের ভেতরে কোনো ধরনের দালালচক্রের কার্যক্রমও বরদাস্ত করা হবে না।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ডা. অনিরুদ্ধ মন্ডল ও ডা. মো. নাঈম খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ