প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন-আশ্বাসের পরও দিনে-দুপুরে দখল হচ্ছে মিরকাদিমের ‘নয়নের খাল’
1

মুন্সিগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ (আমার বিক্রমপুর)

একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির সরেজমিন পরিদর্শনের পরও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘নয়নের খাল’ দখল থামেনি। বরং দখলমুক্ত করার আশ্বাসের কয়েক মাসের মধ্যেই খালের নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে দখলের অভিযোগ উঠেছে।

মিরকাদিম পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নয়নের খালের মিরাপাড়া বৌ-বাজার এলাকার উত্তর পাশে মৃত সালাউদ্দিন হাজির বাড়ির পেছনে এ দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সালাউদ্দিন হাজির ছেলেরা খালের প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা বাঁধ দিয়ে ঘিরে ভরাটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিনের আলোয় এ কার্যক্রম চললেও দখলদারদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরাপাড়া বৌ-বাজারসংলগ্ন গোলাপবাগ অভিমুখে নয়নের খালের একটি অংশে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। মৃত সালাউদ্দিন হাজির বাড়ির পেছনে খালের বড় একটি অংশ ঘিরে ফেলে ভরাটের প্রস্তুতি চলছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, ‘নয়নের খাল দখলমুক্ত আর হলো না। নতুন করে আবারও দখল হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী এসে আশ্বাস দিয়েছেন, প্রশাসনও কয়েক দিন এ নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু এখন দেখছি আবার খাল দখল শুরু হয়েছে।’

জামাল মিয়া নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, খাল দখলের কারণে এমনিতেই আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকে এবং ময়লা-আবর্জনা আটকে যায়। মিরকাদিম ও পঞ্চসার এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপও রয়েছে। খালগুলো এভাবে দখল হতে থাকলে জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব আরও বাড়বে।

একজন প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘খাল যে-ই দখল করুক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে একজনকে দেখে অন্যরাও খাল দখলে উৎসাহিত হবে।’

খাল দখলের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহামুদুর রহমান খোন্দকারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে নয়নের খাল। একসময় মিরকাদিম ও পঞ্চসার এলাকার পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খালটির বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

নয়নের খালের দখল ও দূষণ নিয়ে এর আগে ‘দখল, দূষণে অস্তিত্ব বিলীনের পথে নয়নের খাল’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে খালটির দখল-দূষণ নিয়ে আরও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের নজরে আসে।

এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি সরেজমিনে নয়নের খালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। গত জুনে পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খালের অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে।

এরপর খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার করার কাজ শুরুর কথাও জানানো হয়েছিল।

তবে প্রতিমন্ত্রীর এমন আশ্বাস ও প্রশাসনের উদ্যোগের পরও নতুন করে খালের জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খালের সীমানা নির্ধারণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা অংশ যাতে ভবিষ্যতে আবার দখল না হয়, সে জন্য স্থায়ী নজরদারি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ