শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংকে ২৩০ গ্রাহকের অভিযোগ, নিজ এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট করেননি শরিফুজ্জামান, আটক ১
11

মুন্সিগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগে দুই দিনে ২৩০ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনে আরও ৪৬ জন গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দেন। এর আগে রোববার ১৮৪ জন অভিযোগ করেছিলেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকের অফিসার ক্যাশ মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ জমা স্লিপ ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা গ্রহণ করেছেন। দুই দিনে জমা পড়া অভিযোগে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মোট অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

সোমবারও ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে শত শত গ্রাহক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রথমে যে ফরমে অভিযোগ গ্রহণ করছিল, সেখানে গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে শরিফুজ্জামান সোহাগের লেনদেন হয়েছে—এমন তথ্য দিতে বলা হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের দাবি, তারা শরিফুজ্জামানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে নয়, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন করেছেন। ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ব্যাংকের কার্যালয়ে এমন লেনদেন কীভাবে চলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

একাধিক গ্রাহক বলেন, ব্যাংকের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসে দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতেন না—এটি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

এক নারী গ্রাহক অভিযোগ করেন, ঘটনার শুরুতে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, পরে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন গ্রাহকদের ব্যক্তিগতভাবে শরিফুজ্জামানের সঙ্গে লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ তার বাড়িতে গিয়ে টাকা দিয়েছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে। এসব বক্তব্যে গ্রাহকদের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত অফিসার ক্যাশ মো. শরিফুজ্জামান সোহাগকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যাংকের অপর কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সৌরভ জমাদ্দার বলেন, শুরুতে অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক থেকে যে ফরম দেওয়া হয়েছিল, গ্রাহকদের আপত্তির পর সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। গ্রাহকরা ব্যক্তিগতভাবে লেনদেন করেছেন—এমন কোনো কথা ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়নি।

তিনি বলেন, গ্রাহকরা যাতে তাদের টাকা ফেরত পান, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একটি টিম কাজ করছে। সোমবারও তারা শ্রীনগর শাখায় কাজ করেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বলেন, শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, অফিসার ক্যাশ জিন্নাহ হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ নজর রাখছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ