পাহাড় ধসে মা-মেয়েসহ নিহত ৪
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পাহাড় ধ্বসে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার কবরস্থান পাড়ায় নিহত হয়েছেন মা-মেয়েসহ চারজন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরো একজন।
অপর দিকে রামুতে ঢলের পানিতে ভেসে গেছেন দু’জন। সেন্ট মার্টিনে ঝড়োহাওয়ার কবলে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন মাছ ধরার নৌকাসহ ছয় মাঝিমাল্লা। বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া উপকূলে নৌকা ডুবিতে মারা গেছেন এক জেলে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরো ১০ জনকে। জেলায় দেড় শতাধিক গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে জনজীবণ বির্পযস্ত হয়ে পড়েছে।
রোববার গভীর রাতে শহরের বাহারছড়ার কবরস্থান পাড়ায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কমপক্ষে ছয়টি বাড়ি মাটি চাপা পড়ে। সোমবার সকালে দমকল বাহিনী, ১৬ ইসিবি ’র সেনা সদস্যসহ স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে খায়রুল আমিনের স্ত্রী জুনু বেগম (২৮) ও তার শিশু কন্যা নীহা মনির (৬) লাশ উদ্ধার করেন। দুপুরে উদ্ধার কর্মীরা রোকিয়া ও রিনা নামের আরো দু’জনকে মৃত উদ্বার করেন। এ ঘটনায় শাহ আলম নামের একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছেন মোঃ শাহ আলম (২৮) ও নুরুন নবী (২২) সহ চারজনকে। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ী ঢলের প্রবল স্রোতে রামুর রাজার কুল গ্রামের ছিদ্দিক আহমদের ছেলে আব্দুস সালাম (১৮) ও কচ্ছপিয়া গ্রামের ১৩ দিনের নবজাতক পানিতে ভেসে নিখোঁজ রয়েছে। বন্যায় চকরিয়া, রামু, পেকুয়া,কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের পানি বন্দি হাজার হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। দূর্গত এলাকার লোকজন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এসব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বন্যা কবলিত এলাকা দূর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান। তবে এখনো দূর্গত এলাকায় কোনো ধরণের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি।
চকরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীর তিনটি পয়েন্ট যথাক্রমে সওদাগর ঘোনা, কন্যার কুম এবং পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বিশাল বেড়িবাধ রোববার দুপুরের ঢলের পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায়।
এছাড়া বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়কের চারটি পয়েন্ট দিয়ে বন্যা পানি প্রবাহিত হওয়ায় রোববার দুপুর ১২টা থেকে এই সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসাবে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
গতমাসে রমজানে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সপ্তাহ ব্যাপী পানিবন্দী থাকার পর হঠাৎ করে আবার বন্যা দেখা দেয়ায় মহা দুর্ভোগে পড়ে দূর্গত এলাকার মানুষ।




