জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধের এক লাখ ওলামার ফতোয়া প্রকাশ
112

ধর্মের নামে হত্যা, ইসলাম সমর্থন করে না- এই মর্মে এক লাখ মুফতি, আলেম-ওলেমার স্বাক্ষর সম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল ওলামা নামে একটি সংগঠন।

শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক লাখ মুফতি, উলামার স্বাক্ষর সম্বলিত এ ফতোয়া প্রকাশ করা হয়।

ফতোয়া প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। তিনি বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা বর্বর হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তারা শুধু ইসলামের শত্রুই নয়, মানবতারও শত্রু।

কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে একটি গোষ্ঠী হীনস্বার্থে ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মাসউদ। তিনি বলেন, বিপথগামীদের মানসিক অবস্থা ও চিন্তা চেতনার পরিবর্তন না করে শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে এদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

ফতোয়ায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদীরা তাদের কর্মকাণ্ডকে জিহাদ বলেন, এটা জিহাদ নয়, এটা সন্ত্রাস। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে মৃত্যুকে তারা ‘শহিদী মৃত্যু’ বলতে চান। এভাবে আত্মঘাতী মৃত্যু কখনও ‘শহিদী মৃত্যু’ হতে পারে না। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় জঙ্গিবাদ কোনো পথ নয়। আমাদের নবী-রাসুলেরা প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদেরও সেই পথ বেছে নিতে হবে।

ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, মুশরিক হত্যার ধুয়া তুলে তারা নারী-শিশু ও ধর্মীয় ব্যক্তিকে হত্যা করছেন, মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় আক্রমণ করছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা বৈধ নয়। এটা একটি জঘন্য অপরাধ, এটা জাহান্নামের পথ।

তাদের জঙ্গিবাদী চেতনার পরিবর্তনের জন্যই এই ফতোয়া প্রকাশ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য শোলাকিয়া ঈদগাহ এর প্রধান ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসউদের।

বই আকারে ফতোয়াটি প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে সারা দেশের ১ লাখ ১ হাজার ৮৫০ জন মুফতি, আলেম-ওলেমার স্বাক্ষর রয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ৩২০ জন নারী আলেম রয়েছেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে এই স্বাক্ষর নেওয়া শুরু হয়, যা শেষ গত ৩১ মে।

ফতোয়ার একটি করে কপি দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ ‍এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনেও (ওআইসি) পাঠানো হবে।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি এই তিনটি ভার্সনে ফতোয়াটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ