অ্যামাজন প্রাইমের পর এবার চীনা ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মুন্সিগঞ্জের পলক
মুন্সিগঞ্জ, ২৪ জুন ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
২০১৮ সালে ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন মুন্সিগঞ্জের তরুণ শেখ ফরিদ পলক। এরপর নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন মডেলিংয়েও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই তরুণ।
ফ্যাশন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে আসছেন পলক।
অভিনয় ও মডেলিং—দুই ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক সাফল্যের পর তার পথচলা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত হয়েছে।
এর আগে অ্যামাজন প্রাইমের ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত “Timeless Waltz” চলচ্চিত্রে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এবার চীনের ঐতিহ্যবাহী একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের ফটোশুটে অংশ নিয়ে নতুন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মুন্সিগঞ্জের এই মডেল ও অভিনেতা।
সম্প্রতি চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর সেনজোতে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের জন্য ফটোশুট সম্পন্ন করেছেন শেখ ফরিদ পলক। শত শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী একটি প্রাচীন স্থাপনাকে ঘিরে আয়োজিত এই ফটোশুটে তাকে দেখা গেছে চীনের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এক ভিন্ন নান্দনিক রূপে।
আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের দারুণ সমন্বয়ে করা এই ফটোশুট ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসা অর্জন করেছে।
জানা গেছে, এই বিশেষ ফ্যাশন শুটের জন্য চীনা ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার মি. জোজো চেন এমন একজন মডেল খুঁজছিলেন, যার মধ্যে থাকবে বৈচিত্র্য, ব্যক্তিত্ব এবং ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয়ের শক্তিশালী উপস্থিতি। সেই অনুসন্ধানেই তাদের নজরে আসে বাংলাদেশের শেখ ফরিদ পলকের নাম। তার কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তাকে এই বিশেষ ফটোশুটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
চীনে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে পলক বলেন, দেশের বাইরের জন্য এর আগেও হলিউডের একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। তবে চীনের এই ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কাজটি আমার কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতির।
তিনি বলেন, এবার আমি চীনে গিয়ে শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছি। যখন আমার নামের পাশে লেখা থাকবে ‘বাংলাদেশ’, সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করার একটি মাধ্যম।
পলক আরও বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমরা যারা সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত, আমরা যেখানেই যাই না কেন—আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয়টিও বহন করি। তাই দেশের সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। চীনের মতো সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশে বাংলাদেশের মডেল হিসেবে কাজ করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্যাশন জগতেও সক্রিয় রয়েছেন শেখ ফরিদ পলক। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের প্রচারণা, ফ্যাশন ক্যাম্পেইন ও বিলবোর্ড বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি।
এছাড়াও দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলি, অভিনেত্রী কেয়া পায়েল, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার গৌতম শাহা, ব্র্যান্ড প্রোমোটার বারিশা হকসহ বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে।
নিজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পলক বলেন, আমি এখনও নিজেকে শেখার পর্যায়েই মনে করি। প্রতিটি কাজ আমাকে নতুন কিছু শেখায়। বর্তমানে চীনের একটি স্ট্রিমিং মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
মুন্সিগঞ্জের এই তরুণের দেশীয় বিনোদন অঙ্গন থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার গল্প যেন এক স্বপ্নবাজ তরুণের সাফল্যের প্রতিচ্ছবি। যেখানে রয়েছে সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরার অদম্য প্রত্যয়।









