হাসপাতালে মৃত স্বজনকে দেখতে যাওয়ার পথে কাভার্ডভ্যান চাপায় প্রাণ গেছে মুন্সিগঞ্জের সোলাইমানের
মুন্সিগঞ্জ, ২ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে গিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিবেশীর মৃত্যুর খবর শুনে শেষবার দেখতে ফের হাসপাতালে যাওয়ার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মুন্সিগঞ্জের সোলাইমান মিয়া (৪৩)।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাজধানীর শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সোলাইমান মিয়া মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ দেওয়ানের ছেলে। তিনি পেশায় আলমারির মিস্ত্রি ছিলেন।
স্বজনরা জানান, সন্ধ্যায় স্ট্রোক করা এক প্রতিবেশীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে বাসে করে মুন্সিগঞ্জে ফিরছিলেন সোলাইমান। পথেই খবর পান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই প্রতিবেশী মারা গেছেন। খবর শুনে বাস থেকে নেমে ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেলে করে আবার হাসপাতালে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার জীবনাবসান ঘটে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিরণ ভুইয়া জানান, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় প্রবেশের সময় শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন মোটরসাইকেলচালক। এ সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারালে সোলাইমান মিয়া সড়কে ছিটকে পড়েন। ঠিক তখনই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করেছে এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক প্রতিবেশীর শেষ বিদায় দেখতে চেয়েছিলেন সোলাইমান। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই পথেই ঝরে গেল তার নিজের জীবন।









