৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | ভোর ৫:৩২
শ্রীনগরের ভাগ্যকুলে লোকালয়ে বালু মহাল
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৫ আগস্ট, ২০২১, শ্রীনগর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারগাঁও এলাকার মাঠপাড়ায় লোকালয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একটি বালু মহাল। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালু মহালটি গড়ে তোলেন ওই এলাকার মোয়াজ্জেম সারেং নামে এক প্রভাবশালী।

সামান্য বাতাসের কারণে বিশাল বালুর স্তুপ থেকে দিনরাত বালু উড়ে এসে নাকাল করছে বসতবাড়ির ও রাস্তাঘাটের লোকজনকে। এতে করে স্থানীয়রা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকার পাশাপাশি বালু মহাল সংলগ্ন রাস্তায় হাটা চলফেরায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই এলাকার কামারগাঁও আইডিয়াল স্কুল-মাঠপাড়া পাকা রাস্তার মোড়ে বিভিন্ন বসতবাড়ির সংলগ্ন রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বালু মহালটি। বিস্তীর্ণ জায়গায় প্রায় ১০/১২ ফুট উঁচু করে বিশাল বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

দেখা যায়, নিষিদ্ধ ট্রলিতে করে বালু কেনাবেচা হচ্ছে। অপরদিকে সামান্য এলো মেলো বাতাসে স্তুপ থেকে প্রচুর বালু উড়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী বসতবাড়িতে। লক্ষ্য করা গেছে, সড়কে চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ এসব ট্রলি থেকে রাস্তাজুড়ে বালু পড়ে সড়কে ধুলা বালির সৃষ্টি হচ্ছে। অবৈধ মাহেন্দ্র ট্রলিতে ভরে এসব বালু বিক্রি করা হচ্ছে।

বালু ভর্তি এসব যানবাহনের ওভারলোডিংয়ের কারণে মাঠপাড়া এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে পড়ছে। পুরো সড়কে এসব ধুলা বালির কারণে যাতায়াতকারীর ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানায়, ড্রেজার পাইপের মাধ্যমে এখানে বালু আনা হয়। পরে মোয়াজ্জেম সারেং এসব বালু ৪/৫ টাকায় প্রতি ফুট বালু বিক্রি করেন। বিক্রি শেষে পুনরায় ড্রেজারে এখানে বালু এনে রাখেন তিনি।

একটু বাতাস আসলেই বালুর স্তুপ থেকে প্রচুর পরিমানে বালু উড়ে আসে বসতবাড়িতে। এতে আবাসিক এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় বালু মহালটি অপসারেণের দাবি জানান এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, এখানকার ধুলা বালির কারণে বিশেষ করে বসত বাড়িতে বৃদ্ধসহ শিশুরা শ্বাষ কষ্টের শিকার হচ্ছেন। তার পরেও মুখ বুঝে সহ্য করার অন্যতম কারণ বালু ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম সারেং এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননা।

এ ব্যাপারে মো. মোয়াজ্জেম সারেংয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বালু ব্যবসা ছেড়ে দিবো। বছরে ১ লাখ টাকায় জায়গাটি ভাড়া নিয়ে বালুর ব্যবসা করছেন তিনি। আবাসিক এলাকায় বালু মহল গড়ে তোলা কতটা যুক্তিসংঙ্গত? এই ব্যবসায় তার কোন পারমিশন রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

error: দুঃখিত!