৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | রাত ৪:২৮
মোল্লাকান্দিতে যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে গুলি, কুপিয়ে জখম
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার মোল্লাকান্দিতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জিয়া সরদারকে (৪৫) মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে কুপিয়ে এবং গুলি করে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত জিয়া এ ঘটনায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শিপন পাটোয়ারি ও তার সহযোগীদের দায়ী করেছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গুলিবিদ্ধ জিয়া অভিযোগ করে বলেন, মোল্লাকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারির ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শিপন পাটোয়ারি তার সহযোগিদের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

আহত জিয়া মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের জেদ্দাল সরকারের ছেলে।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, বেলা ৩টার দিকে ওই ব্যক্তিকে (জিয়া সরকার) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ ও থেঁতলানো রয়েছে। তাঁর একটি হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া দুপায়ে চারটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিপন হোসেন পাটোয়ারির সঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহাসিনা হক কল্পনার কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে স্থানীয় শক্তিশালী দুইটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন পরপরই এদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহত জিয়া সরকার মহসিনা হক কল্পনার সমর্থক ছিলেন। কয়েক দিন আগে টংগিবাড়ী উপজেলার পুরাবাজার এলাকায় চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি একটি বিচার সালিসে যান। সেখানে এক পক্ষের লোকজন রিপনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। জিয়া সরকারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর জের ধরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে টংগিবাড়ী উপজেলার বেশনাল এলাকা থেকে জিয়াকে উঠিয়ে নেন চেয়ারম্যানের ভাই শিপন পাটোয়ারি।

পরে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আমঘাটা এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে শিপন পাটোয়ারিকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারি বলেন, ‘জিয়ার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাঁকে কারা তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করেছে তা আমি জানি না। আমাকে, আমার ভাই ও লোকজনদেরকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা দোষারপ করা হচ্ছে।’

মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খাইরুল হাসান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইসহ কয়েক জনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

error: দুঃখিত!