মুন্সীগঞ্জের প্রিমিয়ার সিমেন্টের শতাধিক শ্রমিক অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ
মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকায় অবস্থিত প্রিমিয়ার সিমেন্ট কারাখানার ক্যান্টিনে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রমিকরা।
খাদ্যে বিষক্রিয়ায় শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক।
অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে জামাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ (২৪), কালু মিজি (৮০), মোস্তফা শেখ (৪৫), আবু বক্কর, আশরাফুল, লোকমান হোসেন, ওমর ফারুক, মোকছেদুল, সামছুল হক, হযরত আলী, অমল, নুর হোসেন, আশরাফুল, ইসমাইল, আবদুর রহিম, সুমন, রবিউল, আসাদুল, নুরুজ্জামান, রুস্তম আলী এবং প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাসহ ৮৫ জনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ জন এখনো (দুপুরে) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এছাড়া কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অসুস্থ শ্রমিক জামাল ও লোকমান জানান, সাড়ে তিন শতাধিক শ্রমিক প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও কারখানার ভেতরে থাকা জামাল হুজুরের ক্যান্টিনে খাবার খান। মধ্যরাতের পর থেকে একে একে শ্রমিকরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে থাকেন। নিম্নমানের ও ভেজাল খাবার পরিবেশন করায় শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
তারা আরো জানান, কারখানার ক্যান্টিনে প্রতিদিনই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। খাবারের সঙ্গে পোকা-মাকড়ও পাওয়া গেছে বহুবার। অথচ ক্যান্টিনে প্রতিমাসে খাবার বাবদ জনপ্রতি তিন হাজার দুইশ’ টাকা করে দিতে হয়। এর মধ্যে মালিকপক্ষ জনপ্রতি ১২শ’ টাকা করে বহন করে। বাকি টাকা শ্রমিকদের দিতে হয়।
ক্যান্টিন মালিকের অনিয়ম ও অবহেলার কারণেই ভেজাল খাবার খেয়ে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, শ্রমিকরা মঙ্গলবার রাতে যে খাবার খেয়েছিলেন তা থেকে ফুড পয়জনিং (খাদ্যে বিষক্রিয়া) হয়েছে।
তিনি আরো জানান, অসুস্থ শ্রমিকদের স্যালাইনসহ প্রয়োজণীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে অন্তত ২৫ শ্রমিক বাসায় ফিরে গেছেন।









